ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস
Web Development Images Pixabay

ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস

ওয়েব ডেভেলপার বর্তমানে অত্যন্ত চাহিদা সম্পন্ন পেশা। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। দিন দিন বাড়ছে ওয়েবসাইটের সংখ্যা। এ পৃথিবীতে এক বিলিয়নেরও বেশি ওয়েবসাইট রয়েছে। আর এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের।

ওয়েবসাইট : কোনো ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পৃষ্ঠা, ছবি, অডিও, ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টিকে বোঝায়, যা ইন্টারনেট বা ল্যানের মাধ্যমে অ্যাকসেস করা যায়। ওয়েব পৃষ্ঠা মূলত একটি এইচটিএমএল ডকুমেন্ট, যা এইচটিটিপি প্রোটোকলের মাধ্যমে ওয়েব সার্ভার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্রাউজারে স্থানান্তরিত হয়। উন্মুক্ত ওয়েবসাইটগুলোকে সমষ্টিগতভাবে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ নাম দেওয়া হয়েছে।

ওয়েব ডেভেলপার : ওয়েবসাইট তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত ওয়েব ডেভেলপার। আরেকটু বিষদভাবে বললে – ওয়েবসাইট ডিজাইন করার পর তাকে ‘লাইভ’ করার মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে তারাই ওয়েব ডেভেলপার।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট : ক্লায়েন্টের যাবতীয় রিকোয়ারমেন্ট যেমন সাইট স্ট্রাটিক হবে না ডাইনামিক, ল্যাঙ্গুয়েজ কী হবে, অ্যাডমিন এবং ইউজারের কতটুকু অ্যাকসেস থাকবে, প্রাইভেসি-সিকিউরিটি ইত্যাদি জাতীয় ফুলফিলাপ করে সাইট তৈরির যজ্ঞকে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বলে।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের মধ্যে পার্থক্য

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে একটা পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট তৈরির দুটো ধাপ। ডিজাইন হচ্ছে প্রথম ধাপ এবং ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে শেষ ধাপ।
ওয়েব ডিজাইন অংশে একটি ওয়েবসাইটের ফ্রন্ট-এন্ড অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা যে অংশ দেখতে পায় সেটা করা হয়ে থাকে আর ডেভেলপমেন্ট অংশে ব্যাক-এন্ড অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটের ভেতরের ফাংশনাল পার্টগুলো ডেভেলপ করা হয়ে থাকে।
বিষয়টি পরিষ্কার হবে যদি আমরা ফেসবুকের কথাই চিন্তা করি। ফেসবুকে আমরা যে কালার, লেখা, ছবি ইত্যাদি দেখি, এই প্রদর্শনের কাজগুলো হয় ডিজাইন পার্টের মাধ্যমে, আর এই যে আমরা সেখানে রেজিস্ট্রেশন করতে পারি, পোস্ট করতে পারি, কমেন্ট করতে পারি এ জাতীয় ফাংশনাল কাজগুলো আটোমেটিক করা হয় ডেভেলপমেন্ট পার্ট থেকে।
যেভাবে ওয়েব ডেভেলপার হতে হবে : চাইলে ও যে কেউ বিশ্বসেরা ওয়েব ডেভেলপার হতে পারে। কিন্তু এর জন্য সবার প্রথম প্রয়োজন একাগ্রতা। আর প্রয়োজন প্রচুর পরিশ্রম ও সাধনা। পরিশ্রম ও সাধনা ছাড়া কেউ কোনো কাজে কখনো সফল হতে পারেনি। আপনি সফল হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে। আপনি যদি একাগ্রচিত্তে পরিশ্রম করতে রাজি থাকেন এবং ধৈর্যসহকারে আপনার সাধনা চালিয়ে যান, তা হলে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার
Web Development Images Pixabay

কেন ওয়েব ডেভেলপার?

এক জরিপ থেকে দেখা যায়, শুধু আমেরিকাতেই প্রতি মাসে প্রায় ১৬ মিলিয়নের বেশি অর্থাৎ ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে! যার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি করা হয় প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হায়ার করে এবং যার মার্কেট ভেল্যু ২০ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা! একটা সময় ছিল যখন ওয়েবসাইট ছিল শখের একটা বিষয়। কিন্তু এখন তা আর কোনো শখ বা বিলাসিতা নয়, বরং অবশ্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন প্রতিদিনই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ওয়েবসাইট তৈরি করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় দক্ষ ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা নগণ্য। ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এখানেই হতে পারে আপনার উপার্জনের সবচাইতে বড় সুযোগ। মার্কেট প্লেসগুলোয় সবচেয়ে বেশি চাহিদা ওয়েব ডেভেলপারের। পারিশ্রমিকও অন্য সব কাজের তুলনায় বেশি। যেখানে তুমুল হারে প্রতিদিন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সংখ্যা বেড়ে চলেছে তার তুলনায় নতুন ওয়েব ডিজাইনারের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। প্রতিদিন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সেক্টরের মার্কেট সাইজ বিদ্যুৎ গতিতে বেড়ে চললেও সেই হারে বাড়ছে না ওয়েব ডেভেলপারের সংখ্যা। এর ফলে বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে এই সেক্টরে!

শিক্ষাগত যোগ্যতা : ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো মাপকাঠি নয়। তবে ইংরেজিতে দক্ষ হলে মার্কেট প্লেসে খুব ভালো করা যাবে। এ ছাড়া আরেকটি কারণ হলো – ওয়েব ডেভেলপমেন্টের ভালো টিউটোরিয়াল বা বই ইংরেজিতে সহজলভ্য। তবে এখন বাংলাতেও অনেক ভালো টিউটোরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে।

তৈরি হতে কতটা সময় প্রয়োজন : আপনার মেধা ও পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করছে আপনার তৈরি হতে কত সময় লাগবে। আপনি কত দ্রুত গোটা ব্যাপারটা গ্রহণ করতে পারছেন। এ ছাড়া আপনি কতটা সময় ব্যয় করবেন ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার জন্য তার ওপরও। তবে সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে যে কেউ মোটামুটি ভালো ওয়েব ডেভেলপার হতে পারে। আসল কথা হলো, আপনি কখনো এটা শিখে শেষ করতে পারবেন না। ছয় মাস ধারণা নেওয়ার পর আপনিই বুঝতে পারবেন আপনি আসলে কাজ নেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে কতটা যোগ্য। আপনাকে অবশ্যই নতুন নতুন আপডেট সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে আপডেট করে নিতে হবে। তা না হলে আপনি কখনই সফল হতে পারবেন না। সাময়িক সফল হলেও অচিরেই আপনি আপনার প্লেস হারাবেন। মনে রাখবেন শেখার কোনো শেষ নেই।

শুরুটা যেভাবে : ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার জন্য আপনাকে যে বিষয়গুলো জানতে হবে :

এইচটিএমএল : হাইপার টেক্সট মার্ক আপ ল্যাঙ্গুয়েজ (এইচটিএমএল) হলো একটি ফরমেট, যাতে বিভিন্ন প্রকারের ফরমেটিং ও হাইপারলিংক ব্যবহার করা যায়। প্রকৃত অর্থে এটি কোনো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নয়, বরং একটি মার্কআপ ল্যাঙ্গুয়েজ যা একসারি মার্কআপ ট্যাগের সমন্বয়। ইন্টারনেটে, তথা ওয়েবসাইটে এইচটিএমএল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এই ফাইলের এক্সটেনশন .htm অথবা .html উভয়ই হতে পারে। এতে বিভিন্ন এইচটিএমএল ট্যাগ ব্যবহার করে বিভিন্ন ফরমেটিং, অবজেক্ট ও লিংক প্রকাশ করা করা হয়। এইচটিএমএলের সর্বশেষ ভার্সন হলো এইচটিএমএল-৫। এর মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইটের কাঠামো তৈরি করবেন।

সিএসএস : একটি মার্কআপ ভাষা। ওয়েবপেজ স্টাইলশিটের মাধ্যমে অতিসহজেই ওয়েবপেজকে দৃষ্টিনন্দন ভাবে উপস্থাপন করা। এইচটিএমএলের মাধ্যমে একটি ওয়েবপেজ বাহ্যিক রূপ পায় আর সিএসএসের মাধ্যমে এর সৌন্দর্য পরিপূর্ণতা লাভ করে। মূলত সিএসএসের ব্যবহারে পেজ ডিজাইনিংয়ে প্রচুর সময় বাঁচে। ওয়ের ডিজাইনের দক্ষতা ওপরের ধাপ উন্নত করতে চাইলে ক্যাসকোডিং স্টাইলশিটের (সিএসএস) কোনো বিকল্প নেই। সিএসএস একই ডকুমেন্ট একাধিকবার ব্যবহার হতে পারে এবং ডকুমেন্ট বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন স্টাইলে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্টালশিটের ব্যবহারে ডকুমেন্টের স্টাইল বদলে যাবে কিন্তু স্ট্রাকচার একই থাকবে। একই স্টাইলশিট একাধিক পেজ কিংবা একাধিক স্টাইলশিটে একই পেজ ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রোগ্রামিং ভাষা : কম্পিউটারের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। মানুষের মুখের স্বাভাবিক ভাষাগুলোর মতো প্রোগ্রামিং ভাষাগুলোও বাক্যতাত্ত্বিক ও অর্থ নিয়ম মেনে চলে। তারপর আপনাকে কোনো একটা প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। এটা মূলত ওয়েবসাইটের ইঞ্জিন। সাধারণত ওয়েব ডেভেলপাররা পিএইচপি শেখে। পিএইচপি মূলত সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটা তুলনামূলক সহজ এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি।

সিএমএস : কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম (ওয়েব), যার মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কনটেন্ট (লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি) সম্পাদনা, প্রকাশ ও পরিবর্তন করা হয়। এ ধরনের সিস্টেমে সাধারণত আগেই কিছু প্রোসিডিউর বা ফাংশন লেখা থাকে, যেগুলো পরিবর্তন করে কোনো ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। বিশাল ও জটিল কোড লেখার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য সিএমএস তৈরি করা হয়েছে। কয়েকটি জনপ্রিয় কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা সিএমএস হলো – ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ম্যাজেন্টা, পিএইচপি-নুক ইত্যাদি।

ওয়েব ডেভেলপারের আয়-রোজগার
দক্ষ ওয়েব ডেভেলপার অল্প সময়ের মধ্যে মাসে কয়েক লাখ টাকা সহজেই উপার্জন কার সম্ভব। Indeed.com-এর দেওয়া এক তথ্য অনুযায়ী, একজন ওয়েব ডিজাইনারের গড় বার্ষিক বেতন ৬০ হাজার ১৮২ মার্কিন ডলার; যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৫৬০ টাকা, প্রতি মাসে হিসাব করলে দাঁড়ায় ৪ লাখ টাকা

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close Menu