মনিটরিং অফিসার | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস

মনিটরিং অফিসার

মনিটরিং অফিসার

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল, উন্নয়নের বিস্ময়। তাই উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এখানে তরুণদের জন্য এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাজের সুযোগ এবং পরিধি বেশ বড়। এ সকল সংস্থায় বেশ আকর্ষণীয় এবং লাভজনক চাকরি হল ‘মনিটরিং অফিসার‘ বা ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার’ চাকুরী করা। একজন মনিটরিং অফিসার এসব সংস্থার বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়নের মূল কাজ করেন।

কাজের সুযোগ
মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার হিসাবে কাজের সুযোগ রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় এবং অলাভজনক সেবাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে। এর সাথে সাথে বিভিন্ন খাতে মনিটরিং অফিসারের পদ দেখা যায়। যেমন: মানব উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, টেকসই উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।

দায়িত্ব
মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসারের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে প্রজেক্টের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা, মনিটরিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনা তৈরি করা, প্রজেক্টের সাথে যুক্ত কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া, প্রজেক্টের সাথে যুক্ত কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা, প্রজেক্টের সাথে কর্মীদের কাজ পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরি করা, প্রজেক্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জিত হচ্ছে কি না এবং সে ব্যাপারে সামগ্রিক মূল্যায়ন করা।

যোগ্যতা
যে কোন সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফ্যাকাল্টি অফ আর্টস বা সোশ্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি থাকলে মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার হিসাবে কাজ করা যায়। সমাজবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও অর্থনীতি বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত উন্নয়ন খাতে ৫ – ১০ বছর কাজ করার পর এ পদে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। একজন মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসারের যে সব বিষয়ে দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয় সেগুলো হল – উন্নয়ন খাত সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান; মনিটরিংয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা; সার্ভে করার দক্ষতা; পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা; ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ সরিয়ে রেখে যৌক্তিকভাবে মূল্যায়ন করার দক্ষতা; খুঁটিনাটি বিষয়ে মনোযোগ দেবার ক্ষমতা; বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে দক্ষভাবে যোগাযোগ করতে পারা; এবং দলগত কাজে দক্ষতা। মনিটরিং অফিসারের মূল স্কিল হল পার্টিসিপেটরি রুরাল অ্যাপারাইজাল (PRA) সম্পর্কে জ্ঞান, লগ-ফ্রেম বেইজড মনিটরিংয়ে দক্ষতা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা। এর সাথে সাথে বিশেষ স্কিলের মধ্যে রয়েছে গবেষণার দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা এবং রিপোর্টিং।

ক্যারিয়ার গ্রাফ
এন্ট্রি লেভেলে অ্যাসিস্ট্যান্ট মনিটরিং অফিসার বা প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু হবে। ৫- ১০ বছরের মধ্যে মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার হবার যোগ্যতা অর্জন হবে। এ ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বড় প্রজেক্টের উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ পাওয়া যায়।

আয় রোজগার
কাজের ধরনভেদে মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অফিসার বা মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসারের বেতন আলাদা হয়। সাধারণত স্থায়ী কাজের ক্ষেত্রে মাসিক বেতন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কাজে পুরো প্রজেক্টের মেয়াদে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা বা প্রজেক্টে কাজ করলে মেডিকেল ইনস্যুরেন্স, রিক্রিয়েশন ফি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সুবিধা পাবার সম্ভাবনা থাকে।

Read Previous

কবুতর পালন | স্বল্পপুঁজির ব্যবসা | ব্যবসা উদ্যোগ | ক্যারিয়ার টিপস

Read Next

বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার | বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.