ভারতের উত্তরাধিকারের রাজনীতি

উত্তরাধিকারের রাজনীতি বিশ্বজুড়ে নতুন কিছু নয়। তবে বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতের রাজনীতি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত উত্তরাধিকারদের ওপর নির্ভর করেই এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় থেকে আঞ্চলিক সব ক্ষেত্রেই রয়েছে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির উদাহারণ। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি সম্পর্কে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্য- ভারতের বৈশিষ্ট্যই বংশপরম্পরা।

প্রায় দেখা যায় দলের নেতৃত্ব সুসংহত করার প্রয়োজনে নেতার মৃত্যুর পরে বা তার অবসরের পরে তার পরিবারের কোনো এক সদস্য দলের নেতৃত্বের আসন গ্রহণ করেছেন। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কাঞ্চন চন্দ্র ভারতে উত্তরাধিকারের রাজনীতি নিয়ে ‘ডেমোক্রেটিক ডাইনাস্টিস: স্টেট, পার্টি অ্যান্ড কনটেমপরারি ইন্ডিয়ান পলিটিকস’ নামে একটি বই সম্পাদনা করেছেন। এই বইয়ের ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালের লোকসভা (জাতীয়) নির্বাচনের তুলনামূলক চিত্র তুলে দেয়া হয়েছে। লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ২০০৪ সালে বংশপরম্পরার এমপি ছিলেন ২০ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০০৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে আবার তা ২১ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসে। এর পরে আবার দেখা যায় সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর ৩৬ শতাংশ নেতা উত্তরাধিকারের রাজনীতি থেকে এসেছে।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
বিশ্বের বৃহত্তম ও অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সাধারণভাবে কংগ্রেস নামে পরিচিত। ভারতে উত্তরাধিকারের রাজনীতিতে এক নম্বর স্থানটি দখল করে আছে কংগ্রেস। এই দলের ছয়জন নেতার মধ্যে তিনজন প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের সদস্য। তারা হলেন জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী ও রাজিব গান্ধী। তারা দেশটিতে শাসন করেছেন ৩৯ বছর।

১৯১৯ সালে কংগ্রেসের সভাপতি হন পণ্ডিত মোতিলাল নেহরু। সেখান থেকেই নেহরু-গান্ধী যুগের সূচনা। ১৯২৮ সালেও কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন মোতিলাল নেহরু। পরের বছরই সভাপতি হন তার ছেলে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। ১৯২৯, ১৯৩৬ ও ১৯৩৭ সালেও সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৯ সালে প্রথম সভানেত্রী হন নেহরু-কন্যা ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সভানেত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসেন ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধী। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের কমান্ড নিজের হাতে রেখেছিলেন সনিয়া গান্ধী। এবার তার ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসলেন ‘শাজহাদা’ রাহুল। ভারতের রাজনীতি, নেহেরুর গড়ে যাওয়া রাজত্ব এবং কংগ্রেস দায়িত্ব এখন রাহুল গান্ধীর কাঁধে। কংগ্রেস পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে রাহুলই হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তাই সভাপতি হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ২০১৯-এর নির্বাচনে কংগ্রেসের লড়াই।

সমাজবাদী পার্টি (এসপি)
উত্তর প্রদেশের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়েম সিং যাদবের পুত্র অখিলেশ যাদব। সভাপতি হিসেবে বাবার সমাজবাদী দলের হাল তো ধরেছেনই, বাবার মতো হয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও। তবে উত্তর প্রদেশের গত রাজ্যসভা নির্বাচনে বাবা ছেলে নিজেদের ভেতরে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে- ছেলের কাছে পার্টির প্রেসিডেন্ট পদ হারানোর পর পার্টির নাম ও প্রতীক হারাতে হয় তাকে। এই পরিবারিক দ্বন্দ্বের ফলে সেই নির্বাচনে ভরাডুবি হয় সমাজবাদী পার্টির। অখিলেশ যাদব ছাড়াও সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বে রয়েছে মুলায়েম সিং যাদবের ভাই, ভাতিজা এবং ভাগ্নে।

রাষ্ট্রীয় জনতা দলে (আরজেডি)
বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ভারতের সবচেয়ে বর্ণময় রাজনীতিবিদদের অন্যতম লালুপ্রসাদ যাদব। বিহারে এক সময় প্রবাদ ছিল, সামোসাতে যতদিন আলু থাকবে, ওই রাজ্যেও লালুর শাসন চলবে। তার স্ত্রী রাবড়ি দেবী অতীতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মেয়ে মিসা রাজ্যসভার একজন সদস্য। সেখানে কোয়ালিশন সরকারে লালু প্রসাদ যাদবের দুই ছেলে মন্ত্রী হয়েছিল। দলের উত্তরাধিকারী হিসেবে ছোটছেলে সাবেক ক্রিকেটার তেজস্বী যাদবের নামই ঘোষণা করেছেন আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ। আগামী ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তেজস্বীকেই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়বে আরজেডি। অনেককে আবার এই পদে বড় ছেলে তেজপ্রতাপ এবং বড়মেয়ে মিসা ভারতীর সম্ভাবনা দেখেছিল। জোট সরকারের সময় উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তেজস্বী যাদব।

পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)
জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এখন পিপল’স ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি) এমন একটি দল যা ভারতীয় রাজনীতিতে ‘ওয়ান উওম্যান পার্টি’। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মোহাম্মদ সাঈদের মেয়ে মেহবুবা। রাজ্যটিতে তিনিই প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী। সমর্থকরা তাকে সম্মান করে ‘বাজি’ বলে ডাকেন, উর্দুতে যার অর্থ ‘বড় বোন’। মুফতি মহম্মদ সাইদের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি দলের নেত্রী।

ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)
জম্মু ও কাশ্মীরের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন শেখ আবদুল্লাহ। তার দলের নাম ন্যাশনাল কনফারেন্স। তার স্ত্রী বেগম আকবর জাহান আবদুল্লাহ ছিলেন সংসদ সদস্য। শেখ আবদুল্লাহর বড় ছেলে ফারুক আবদুল্লাহ জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার ছেলে ওমর আবদুল্লাহও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী নেতা। শেখ আবদুল্লাহর আরেক ছেলে মোস্তফা কামাল দলের যুগ্ম সম্পাদক।

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)
ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) চেয়ারম্যান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়া একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। তিনি নিজে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতিতে আসেননি। কিন্তু তার দল এনসিপির নেতৃত্বে তার পরিবারের সদস্যরাই আসছেন বলে মনে হচ্ছে। এনসিপির আগামীর নেতা হতে পারে তার মেয়ে সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে আর ভাতিজা সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার।

শিরোমণি আকালি দল (এসএডি)
চলতি বছরের শুরুতে ২ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার পাঞ্জাবে পঞ্চমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন ৮৯ বছর বয়সের নেতা প্রকাশ সিং বাদল। পরে মার্চে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন। তার ছেলে পাঞ্জাবের উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদল এবং পুত্রবধূ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কাউর। প্রকাশ সিং বাদলের ভাই গুরুদাস সিং বাদলের ছেলে মনপ্রীত বাদল শিরোমণি অকালি দল ছেড়ে পিপলস পার্টি অব পাঞ্জাব গঠন করলেও পরে তা কংগ্রেসের সঙ্গে মার্জ করে।

রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরএলডি)
কৃষকনেতা চৌধুরী শরন সিং ছিলেন জাঠভূমির মুকুটহীন সম্রাট। ছয় মাসের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। চরণ সিংয়ের একমাত্র পুত্র অজিত সিং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন অধ্যাপক হিসেবে কাজ করতেন। ছুটিতে দেশে এসে ফেসে গেলেন। চরণ সিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এই যান-সেই যান অবস্থা। বাবার সমর্থকরা সব হারানোর আশঙ্কায় ধরে বসলেন অজিতকে। সেটা ১৯৮৫ সাল। আর মার্কিন মুল্লুকে ফিরে যাওয়া হলো না অজিতের। বাবার রাষ্ট্রীয় লোক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয় তাকে। অজিত সিংয়ের পরে হয়তো দায়িত্ব নিবে তার ছেলে রাষ্ট্রীয় লোক দল দলের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য চৌধুরী জয়ন্ত সিং।

বিজু জনতা দল (বিজেডি)
উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবিন পট্টনায়েক তার বাবা বিজু পট্টনায়েকের মৃত্যুর সময় রাজনীতিতে ছিলেন না। নিজেদের দলের অস্তিত্ব রক্ষায় বিজু জনতা দলের নেতারা নবিনকে দলটির দায়িত্ব নিতে বলেন। পিতা বিজু পট্টনায়কের মৃত্যুর পর থেকেই দলের হাল ধরেছেন। ব্যাটন হাতে পথ চলা শুরু ১৯৯৭ থেকে। দুই দশক ধরে তিনিই দলের সব সিদ্ধান্তের শেষ কথা। বিজু জনতা দলে নবীন এখনও ‘প্রবীণ’ হননি। তিনিও ব্যাচেলর মুখ্যমন্ত্রী।

দ্রাভিদ মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে)
তামিলনাড়ু রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি পাঁচবার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তার দল দ্রাবিড় মুনাত্রা কাজাঘামের (ডিএমকে) প্রধান তিনি। বয়স তার এখন ৯৫! এখনো রাজনীতির মঞ্চে কাজ করে যাচ্ছেন। বলা হয়, তার পরে দলের দায়িত্ব নেবেন তাঁর ছেলে সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন। যার বয়স ৬৪ বছর। দলের মহিলা শাখার সম্পাদক হলেন করুণানিধির মেয়ে কানিমোঝি। তিনিও সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী ছিলেন। বড় ছেলে এমকে আলাগরিও ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা-সভানেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত ১৬শ লোকসভার সদস্য। তাকে ‘১৬শ লোকসভার শিশু’ বলা হয়। কারণ তিনি উক্ত লোকসভার কনিষ্ঠতম সদস্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ সাংসদের অন্যতম ছিলেন। পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতায় সরব অবিবাহিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হচ্ছে তা আর বলার আপেক্ষা রাখে না। ১৯৯৭ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী, দলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন নিজেই।

শিবসেনা
‘মহারাষ্ট্র কেবল মহারাষ্ট্রের অধিবাসীদের জন্য।’ প্রাদেশিক এই সেøাগানকে সামনে রেখেই বাল ঠাকরের নেতৃত্বে ১৯৬৬-তে তৈরি হয় শিবসেনা। ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষদের বিরোধিতা করে মহারাষ্ট্র অধিবাসীদের কাজের নিশ্চয়তার দাবিতে শুরু হয় শিবসেনার আন্দোলন। রাজনৈতিক বৃত্তে শিবসেনা সুপ্রিমো পরিচিত হয়েছেন সরকারের রিমোট কন্ট্রোল নামে। ছেলে উদ্ভব ঠাকরে এবং ভাইপো রাজ ঠাকরের সেই বিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত দু টুকরো হয়ে যায় শিবসেনা। শিবসেনা থেকে বেরিয়ে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা তৈরি করেন রাজ ঠাকরে। পরবর্তী সময়ে শিবসেনা ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন বাল ঠাকরের পুত্রবধূ জয়দেব জায়া স্মিতা। ২০১২ সালের নভেম্বরে বম্বের বেতাজ বাদশা বাল ঠাকরে মারা যান। বর্তমানে শিবসেনা প্রধান উদ্ভব ঠাকরে আর শিবসেনার যুব শাখার সভাপতি উদ্ভব ঠাকরের পুত্র আদিত্য ঠাকরে।

তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)
অন্ধ্রপ্রদেশের কিংবদন্তী চিত্রতারকা এনটি রামা রাও নতুন একটি রাজনৈতিক দল- তেলেগু দেশম পার্টি গঠনের ন’মাসের মাথায় কংগ্রেসকে হটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। এনটি রামা রাওয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ছেলেও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত- হয়েছেন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। রামা রাওয়ের পর থেকে দলের ব্যাটন তার জামাই চন্দ্রবাবু নাইডুর হাতে। দলের পলিটব্যুরো আছে বটে, বকলমে দলের সব সিদ্ধান্ত চন্দ্রবাবু নাইডুই নেন। আরেক জামাইও ছিলেন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *