ফুটবলার হতে চাইলে | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস
ফুটবলার হতে চাইলে

ফুটবলার হতে চাইলে | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস

বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। অনেকে এটিকে সকার বলেও ডাকে। ফুটবলই এমন এক খেলা যার জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন মেসি, রোনালদো, নেইমার, সালাহ প্রমুখ। আমাদের জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে যদিও খানিকটা ভাটার টান এখন, তবে সোনালি অতীতে চোখ রাখলে জ্বলজ্বল করতে থাকে কাজী সালাউদ্দিন, সাব্বির, মোনেম মুম্না, কায়সার হামিদ প্রমুখের মুখগুলো। আশার কথা, দেশের নারী ফুটবল দল আর কিশোর ফুটবলারদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশের ফুটবলও ফিরবে তার নিজস্ব কক্ষপথে – ফিরে পাবে আগের সেই তুমুল জনপ্রিয়তা।

ফুটবলার কে?

যিনি ফুটবল খেলেন তাকে ফুটবলার, ফুটবল খেলোয়াড় বা সকার প্লেয়ার বলা হয়। বিশ্বজুড়ে ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রায় ২৫০ মিলিয়নের অধিক সংস্থা রয়েছে। এসব সংস্থা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন প্রকারের অধিকারসহ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। অনেক ফুটবলারই বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নামি-দামি ক্লাবে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে খেলেন ও প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তারা দর্শকদের বিনোদনের লক্ষ্যে চোখ ধাঁধানো ক্রীড়াশৈলী উপস্থাপনা করে সংশ্লিষ্ট সবার নজর কাড়েন। গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল খেলাগুলো সরাসরি টেলিভিশনে প্রদর্শনের ফলে সংশ্লিষ্ট দর্শক-সমর্থকগণ নির্মল আনন্দ উপভোগ করেন। ধারণা করা হয় যে, বিশ্বে আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ফুটবল খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ফুটবলের সঙ্গে জড়িত আছেন।

জীবিকা : ফুটবল খেলোয়াড়রা প্রথমে অপেশাদার হিসেবে তাদের ক্যারিয়ার শুরু করে। পর্যায়ক্রমে তারা পেশাদারী ফুটবলের মাধ্যমে খ্যাতির উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের নিয়ে যায়। সাধারণত স্থানীয় কোনো দলে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমে ফুটবলে যুক্ত হয়। যখন তারা নিজেদের মেধা, দক্ষতা প্রদর্শন করে তখন বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব তাদেরকে নিজেদের দলে চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। নিজস্ব দক্ষতা, অনন্য প্রতিভাগুণে সংশ্লিষ্টদের মনোযোগ আকর্ষণপূর্বক অন্যত্র খেলার প্রস্তাবনা পান ও চুক্তিতে আবদ্ধ হন। একবার চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়ে গেলে তারা আরও নিখুঁত সুন্দর খেলা উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে আরও উন্নততর ফুটবলের কৌশল শিখতে থাকেন। সেরা খেলোয়াড়রা একসময় উচ্চ পর্যায়ের দলে পেশাদারী খেলোয়াড় হিসেবে খেলে আয়-রোজগার করেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে জাতীয় দলে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পায়।

ফুটবলার হতে হলে প্রস্তুতি

আপনি কতটা ভালো খেলোয়াড় হতে পারবেন সেটা নির্ভর করবে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী। এজন্য আপনাকে নিয়মিত ফুটবল খেলে যেতে হবে এবং পৃথিবীর নামি দামি খেলোয়াড়দের বিভিন্ন আক্রমণাত্মক শুট এবং তাদের খেলার কলাকৌশল ফলো করতে পারেন।
যারা পেশাদার ফুটবলের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চান, তাদের জানিয়ে দেওয়া যাক প্র্যাকটিসের কিছু যথাযোগ্য কৌশল। কোনো কিছুতেই প্র্যাকটিসের বিকল্প নেই।

রিসিভের জাদু : বল নিয়ে উঁচু কোনো দেয়ালের সামনে দাঁড়ান। তারপর নিতে থাকেন শট। দেয়ালে লেগে ফিরে আসা বলটি, যতটা নিখুঁতভাবে সম্ভব রিসিভ করার চেষ্টা করুন। প্রথমে হয়তো খানিকটা অস্বস্তি হবে, তবে নিয়ম করে প্রতিনিয়ত এই প্র্যাকটিসটি করে গেলে বাড়বে আপনার রিসিভিং ক্ষমতা। জানেন তো, খেলার মাঠে যথাযথভাবে বল রিসিভ করতে না জানলে আপনার মধ্যে কোনো সম্ভাবনাই দেখতে পাবে না কেউ।

ভেলকিবাজি : বল নিয়ে ভেলকিবাজি শুরু করুন, যেটিকে ফুটবলের পরিভাষায় বলে জাগলিং। কীভাবে করবেন? প্রথমে বলটিকে ঠিক পায়ের পাতার মাঝ বরাবর রাখুন, যেন গড়িয়ে পড়ে না যায়। তারপর আস্তে করে শূন্যে কিক করুন। আর এভাবে দুপায়ে ছোট ছোট কিকে বলটিকে নিয়ে ভেলকিবাজি দেখাতে থাকুন, যতক্ষণ না সেটি পড়ে যায় নিচে। প্রথম প্রথম হয়তো দুই-তিন কিকের বেশি স্থায়ী হবে না জাগলিং, তবে বারবার প্র্যাকটিসের ফলে দেখবেন কেমন অদ্ভুত রকমের দক্ষ হয়ে উঠেছেন আপনি।

ড্রিবলিং : অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত, ফুটবলের যত মহাতারকা খেলোয়াড়ের নাম জানা যায়, তারা প্রত্যেকেই কম-বেশি দুর্দান্ত ছিলেন ড্রিবলিংয়ে। এ দক্ষতাটি অর্জন করতে হলে, সাপের মতো এঁকেবেঁকে ছোটার অভিপ্রায় মনে ধারণ করতে হবে আপনাকে। মনে মনে ধরে নিতে পারেন অদৃশ্য প্রতিপক্ষের কথা – যে বা যারা আপনার কাছ থেকে বলটি কেড়ে নিতে উদগ্রীব। এবার তাদের কাটাতে থাকুন, যতভাবে সম্ভব; আর ছুটতে থাকুন দুর্নিবার গতিতে।

পথ বদল : ধরুন, ড্রিবলিং করে প্রতিনিয়ত আট ফুটের মতো দূরত্ব বল পায়ে দুর্দান্তভাবে পাড়ি দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করা হয়ে গেছে আপনার, এবার কী করবেন? ফুটবলে সব সময় তো আর কেবল সামনে ছুটলেই চলে না, প্রয়োজনে পেছনে ফেরার কৌশলও জানা চাই। অন্যথায় প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যাবে বলটির দখল। তাই যদি আপনি মূলত ডান পায়ের খেলোয়াড় হয়ে থাকেন, তা হলে মাঠের যে প্রান্তটি ধরে ছুটেছেন এতক্ষণ, ফেরার সময় অন্য প্রান্তটিকে বেছে নিন। দেখবেন, তাতে নিজ দলের কারো কাছে বলটি পাস দিতে সুবিধা হচ্ছে।

পাসের ক্ষমতা : প্র্যাকটিসে সারাক্ষণ বলটির দখলদারিত্ব আপনার পায়ে থাকলেও খেলার মাঠে নিশ্চয়ই তা কিছুতেই সম্ভব নয়। বল আপনাকে পাস দিতেই হবে। কাকে দেবেন? বোকাও জানে, নিজ দলের খেলোয়াড়কেই দিতে হবে পাস। আপনিও জানেন; কিন্তু আপনার বল পাস করার দক্ষতা কতটুকু নিখুঁত? যদি তা সন্তোষজনক না হয়, তা হলে কেউই আপনাকে দলে নিতে চাইবে না। তাই পাসিং প্র্যাকটিস যে এ ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য অংশ, সে কথা বলাই বাহুল্য। এ জন্য কোনো সঙ্গী কিংবা সহ-খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট সামনে-পেছনে পাসিং প্র্যাকটিস করুন। আর প্রতিদিন একটু একটু করে বাড়াতে থাকুন দূরত্বের হিসাব। ধরুন, প্রথম দিকে বিশ ফুট পর্যন্ত দূরত্বে পাস আদান-প্রদান করুন। আর দিনে দিনে তা বাড়িয়ে তুলুন অন্তত ৪০ ফুট পর্যন্ত।

কিকের জোর : সব সময় ছোট ছোট পাসে নিশ্চয়ই খেলা যাবে না? প্রয়োজনের সময় নিতে হবে জোরসে শট, যেটিকে ফুটবলের ভাষায় এয়ার-পাস বলে ডাকে। তাই কিকের জোরটিও ঝালাই করে নিন প্রতিদিন, একটু একটু করে। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি মূলত ডান পায়ের খেলোয়াড় হয়ে থাকেন, কিক করার আগে বাঁ পা ঠিক বলটির পাশে সুস্থিরভাবে রাখুন। তার পর মারুন সপাটে কিক – যেন ৫০ ফুট দূরে থাকা সহ-খেলোয়াড়টির কাছে গিয়ে পৌঁছায় বলটি।

ফুটবলার জন্য প্রশিক্ষণ এবং ক্যাম্প
ঢাকার অদূরে সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষাকেন্দ্র; যা সংক্ষেপে বিকেএসপি নামে পরিচিত – সেখানে ফুটবলসহ ১৭টি ক্রীড়া বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। তবে সাভারের প্রধান কেন্দ্র ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুরে রয়েছে বিকেএসপির আঞ্চলিক কেন্দ্র। বিকেএসপি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। বিকেএসপির মূল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয় উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত। তবে স্নাতক (পাস) ও বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রিতেও কিছু শিক্ষার্থীর ভর্তি করানো হয়। বিকেএসপিতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় সপ্তম শ্রেণিতে। তবে বিশেষ ক্রীড়া যোগ্যতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বয়স ও উচ্চতা শিথিল করা হয়। বিকেএসপির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো দেশজুড়ে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা। এ লক্ষ্যে ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে বিকেএসপি। এর মাধ্যমে সারাদেশ থেকে খুঁজে বের করা হয় সেরা খেলোয়াড়দের। এসব খেলোয়াড়কে আবার বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশান (বাফুফে) বিভিন্ন সময় ফুটবল প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প এবং ট্যালেন্ট হান্টের আয়োজন করে থাকে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ক্লাব এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ফুটবল প্রশিক্ষণ, ক্যাম্প এবং প্র্যাক্টিসের ব্যবস্থা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close Menu