টিকে থাকা রাজতন্ত্র
রাজতন্ত্র

টিকে থাকা রাজতন্ত্র

জাতিসংঘের হিসাবে পৃথিবীতে মোট স্বাধীন দেশের সংখ্যা ১৯৫। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা বাড়লেও এখনো বিশ্বের নানা প্রান্তের ২৬টি দেশে টিকে রয়েছে রাজতন্ত্র। এই ধরনের শাসনব্যবস্থায় কোনো শাসক বংশানুক্রমিকভাবে শাসন করার সুযোগ পান। কোনো কোনো দেশে রাজা বা রানি নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। আবার কোনো কোনো দেশে রাজার হুকুমেই চলে দেশ। টিকে থাকা রাজতন্ত্র নিয়ে জানাচ্ছেন শামস্ বিশ্বাস

কম্বোডিয়া

প্রাচীনকাল থেকেই কম্বোডিয়ায় রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল। এক হাজার বছরেরও আগে কম্বোডিয়া খমের জাতির আংকর সাম্রাজ্যের কেন্দ্র ছিল। আংকর সাম্রাজ্যটি ৬০০ বছর ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে বিস্তৃত ছিল। ১৮৬৩ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এটি একটি ফরাসি প্রটেক্টরেট ছিল। ১৯৭০ সালে রাজতন্ত্রের স্থানে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে খমেরুজ নামের একটি সাম্যবাদী সরকার ক্ষমতা লাভ করে। খমেরুজের নিপীড়ন ও চরমপন্থি সমাজতান্ত্রিক সংস্কার কম্বোডিয়ার সমাজ ও অর্থনীতিতে ধ্বস নামায়। ১৯৭৯ সালে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার খমের রুজবিরোধী শক্তি সরকারটির পতন ঘটায় এবং অপেক্ষাকৃত সহিষ্ণু একটি সাম্যবাদী সরকার গঠন করে। ১৯৮৯ সালে দেশটি সমাজতন্ত্র পরিত্যাগ করে এবং ১৯৯৩ সালে একটি নতুন সংবিধান পাস করে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়।

ব্রুনাই

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তেলসম্পদে সমৃদ্ধ একটি ধনী রাষ্ট্র ব্রুনাই একটি রাজতান্ত্রিক দেশ। ষাটের দশকের শেষ দিকে এটি এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্রিটিশ উপনিবেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৪ সালে এসে দেশটি স্বাধীন হয়। ষাটের দশকে একটি বিপ্লবের পর থেকে ব্রুনাইয়ে মার্শাল ল’ জারি হয়ে আছে। হাসসান আল-বলকিয়াহ ব্রুনাইয়ের ২৯তম এবং বর্তমান সুলতান ও ইয়াং ডি পেটরুয়ান। তিনি ব্রুনাইয়ের প্রথম ও দায়িত্বরত প্রধানমন্ত্রীও। সুলতান বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ব্রুনাইয়ের সংবিধান অনুসারে সুলতান পূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতাসহ রাষ্ট্রের প্রধান এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণা করারও অধিকারী।

২০০৬ সালের সুলতান ব্রুনাইয়ের আইনে নিজেকে ভুলের ঊর্ধ্বে রেখে সংবিধান সংশোধন করেন। তিনি দেশটির রয়াল ব্রুনাই আর্মড ফোর্সের সর্বাধিনায়ক। এর পাশাপাশি ব্রিটিশ ও ইন্দোনেশিয়ান আর্মড ফোর্সেরও একজন অনারারি জেনারেল। নিজেকে ব্রুনাই রাজকীয় পুলিশ বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) নিযুক্ত করেন।

১৯৯১ সালে তিনি একটি রক্ষণশীল মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। তা মালায়ু ইসলাম বেজারা (মালয় ইসলামি রাজতন্ত্র- এমআইবি) নামে পরিচিত। এই মতবাদে রাজতন্ত্রকে ধর্মীয় বিশ্বাসের রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ব্রুনাই সরকারকে গণতন্ত্রীকরণ করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। ২০০৪ সালে তিনি আইনসভা পুনরায় চালু করেন। এটি ১৯৬২ সাল থেকে অকার্যকর ছিল। এই ২০ সদস্যের আইন প্রণয়ন কাউন্সিলের সদস্যরা আইন প্রণয়নে কেবল পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন।

সৌদি আরব

সৌদি আরব রাজতান্ত্রিক দেশ। এ জন্য যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা জাতীয় নির্বাচন এ দেশে নিষিদ্ধ। অধিকাংশ সমালোচকের মতে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা স্বৈর-একনায়কতান্ত্রিক। দ্য ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সৌদি আরব সরকারকে পৃথিবীর পঞ্চম সর্বোচ্চ স্বৈরাচারী সরকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১২ সালে পত্রিকাটির ডেমোক্র্যাসি ইনডেক্সে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও ১৬৭টি দেশের নাম উল্লেখিত হয়েছিল।

‘ফ্রিডম হাউস’ নামক অন্য একটি পত্রিকা ২০১৩ সালে দেশটিকে সর্বনিম্ন রেটিং ৭ দিয়েছে। এর অর্থ সৌদি আরবে সাধারণ জনগণ ‘মুক্ত নয়’। অবশ্য প্রথা অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী গোত্রীয় সম্মেলন মজলিসে প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনো ব্যক্তি বাদশাহর কাছে আবেদন করতে পারেন। সৌদি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত। শিক্ষার হার প্রায় ৮০.৫ শতাংশ। নাগরিকরা বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী অপরাধের হার প্রায় শূন্য। সৌদি আরবের বর্তমানে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ।

যুক্তরাজ্য

একটা সময় বিশ্বজুড়ে শাসন ছিল ব্রিটিশদের। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এত বড় ছিল যে, সূর্যাস্ত হতো না এই সাম্রাজ্যে। উপনিবেশগুলো স্বাধীন হতে হতে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তা। বর্তমানে যুক্তরাজ্য অনেকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ দ্বীপটির নাম বৃহৎ ব্রিটেন বা গ্রেট ব্রিটেন। গ্রেট ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল ভাগটির নাম ইংল্যান্ড। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যকালীন হস্তগত ১৪টি বহিস্থ এলাকা এখনো যুক্তরাজ্যের অধীন। দুটি বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ক্ষুণ্ণ হয়। তা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাজ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী দেশ। যুক্তরাজ্য একটি উন্নত দেশ। এর অর্থনীতি বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। যুক্তরাজ্য একটি সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এখানে একটি সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থা বিদ্যমান। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ রাষ্ট্রপ্রধান।

যুক্তরাজ্য ছাড়াও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জ্যামাইকা, বারবাডোজ, বাহামাস, গ্রানাডা, পাপুয়া নিউগিনি, সলোমান আইসল্যান্ড, টুভালু, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাদিনেস, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, বেলিজ, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস- এ ১৬টি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রানি ও রাষ্ট্রপ্রধান। কমনওয়েলথভুক্ত এই রাষ্ট্রগুলোর প্রধান ছাড়াও তিনি ৫৪ সদস্যের কমনওয়েলথ অব নেশনসেরও প্রধান। দ্বিতীয় এলিজাবেথ চার্চ অব ইংল্যান্ডেরও প্রধান। নানা কারণে নিয়মিত ব্রিটিশ রাজপরিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় থাকে।

কাতার

আরব উপদ্বীপের মতো কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূপৃষ্ঠস্থ কোনো জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও যৎসামান্য। বেশিরভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহা শহরে বাস করে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ওই সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলো উত্তোলন শুরু হয়। দেশটিতে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের হিসাবে কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি।

সৌদি আরব, ওমানের পর কাতার অন্যতম রক্ষণশীল রাষ্ট্র। কাতারের নাগরিক সুযোগ-সুবিধার মান খুবই উন্নত। ১৯০০ শতকের শেষভাগ থেকে আল থানি গোত্রের লোকরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীন আসে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। কাতারের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। কাতারের আমির হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকারপ্রধান তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০১৩ সালে তার পিতা হামাদ বিন খলিফা আল থানির হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির আমির ছিলেন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।

মালয়েশিয়া

সাংবিধানিক রাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় প্রাচীন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় অভিভাবক হিসেবে রাজা থাকেন। বর্তমান রাজার নাম সুলতান আবদুল্লাহ। মালয়েশিয়ার রাজার আনুষ্ঠানিক পদবি হলো ‘ইয়াং দি পারতুয়ান আগং’। রাজার পদটি একেবারেই আনুষ্ঠানিক। তিনি নিয়মিত সরকার পরিচালনার কোনো কার্যক্রমে অংশ নেন না। ইয়াং দি পারতুয়ান আগং প্রথাটি শুরু হয় ১৯৫৭ সালে ফেডারেশন অব মালয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর। ‘ইয়াং দি পারতুয়ান আগং’ খুবই মর্যাদার বিষয়, বিশেষ করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় মুসলমানদের মধ্যে। এ কারণে রাজা মালয় ও ইসলামি প্রথার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। রাজার সমালোচনা করলে জেলের ঝুঁকি আছে।

দেশটির রাজতন্ত্রের পদ্ধতিটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের। মালয়েশিয়ায় মোট ১৩টি রাজ্য আছে। প্রতিটি রাজ্যের একটি করে আসন আছে কনফারেন্স অব রুলারসে। তবে এর মধ্যে ৯টি রাজ্যে প্রথাগত মালয় শাসক আছেন। পাঁচ বছর পর পর এ ৯টি রাজ্যের সুলতানরা ভোট দিয়ে নিজেদের মধ্যে একজনকে রাজা নির্বাচন করেন। রাজার পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক এবং দেশটিতে ক্ষমতা মূলত পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্ব তার। যেমন- প্রধানমন্ত্রী। তিনিই মালয়েশিয়ায় ইসলাম ধর্মের নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ। আবার ক্ষমা মঞ্জুর করার ক্ষমতা আছে তার।

ভুটান

অতীতে ভুটান পাহাড়ের উপত্যকায় অবস্থিত অনেকটি আলাদা রাজ্য ছিল। ১৬১৬ সালে নগাওয়ানা নামগিয়াল নামের এক তিব্বতি লামা তিনবার ভুটানের ওপর তিব্বতের আক্রমণ প্রতিহত করলে ভুটান এলাকাটি একটি সংঘবদ্ধ দেশে পরিণত হতে শুরু করে। ১৬০০ শতকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্র হিসেবে এর আবির্ভাব ঘটে। ১৯০৭ সাল থেকে ওয়াংচুক বংশ দেশটি শাসন করে আসছে। বর্তমানে ভুটান সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের দেশ। ভুটানের রাজার উপাধি ড্রাগন রাজা হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। মন্ত্রীদের একটি কাউন্সিল রাষ্ট্রের নির্বাহীকার্য পরিচালনা করে। সরকার ও জাতীয় সংসদ- উভয়ের হাতে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ন্যস্ত।

এ ছাড়াও যে খেনপো উপাধির দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা রাজার সবচেয়ে কাছের পরামর্শদাতার একজন। ২০০৭ সালে একটি রাজকীয় আদেশবলে রাজনৈতিক দল নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমান সংবিধানে দেশটিতে একটি দুই দলের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। জিগমে খেসার নামগিয়াল ওয়াংচুক বর্তমানে ভুটানের রাজা। ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা বর্তমান রাজবংশের পঞ্চম রাজা। তিনি রাজা হওয়ার পর ভুটানের রাজনীতিতে ব্যাপক বিবর্তন ঘটে। আধুনিক গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। নির্বাচন হয় এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।

থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড একমাত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় রাষ্ট্র – যা যুদ্ধকালীন ছাড়া কখনো কোনো ইউরোপীয় বা বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ১৭৮২ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে পরম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত ছিল। ১৯৩২ সালে বিদ্রোহীরা একটি অভ্যুত্থান ঘটায় এবং দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। থাইল্যান্ড একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সালের ক্যু পর্যন্ত দেশটি একটি কার্যকর গণতন্ত্র হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে একটি বহুদলীয়, মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের সংবিধানে রাজাকে খুব কম ক্ষমতাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক।

থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। ১৭৮২ সাল থেকে ক্ষমতাসীন ও থাইল্যান্ডের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী চক্রী রাজবংশের দশম রাজা তিনি। বর্তমান রাজার বাবা ছিলেন রাজা ভুমিবল অতুল্যতেজ। ১৯৪৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত রাজ্যভার পালন করায় রাজা ভুমিবল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর রাজা ভুমিবলের মৃত্যুর পর ছেলে মাহা ভাজিরালংকর্ন সিংহাসনে আরোহণ করেন। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ হন রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন।”

 

রাজতন্ত্রী দেশ

১. সৌদি আরব

২. ভুটান

৩. যুক্তরাজ্য

৪. সোয়াজিল্যান্ড

৫. লেসোথো

৬. মরক্কো

৭. ব্রুনাই

৮. কম্বোডিয়া

৯. কুয়েত

১০. থাইল্যান্ড

১১. সংযুক্ত আরব আমিরাত

১২. মালয়েশিয়া

১৩. জর্ডান

১৪. ওমান

১৫. কাতার

১৬. বাহরাইন

১৭. অ্যান্ডোরা

১৮. বেলজিয়াম

১৯. ডেনমার্ক

২০. স্পেন

২১. লিশটেনস্টাইন

২২. লুক্সেমবার্গ

২৩. মোনাকো

২৪. নরওয়ে

২৫. নেদারল্যান্ডস

২৬. টোংগা

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close Menu