সবজিবিপ্লব

সবজিবিপ্লব
একসময় ভালো স্বাদের সবজির জন্য শীতকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। টমেটো, লাউ, কপি বা নানা পদের শাক শীতকাল ছাড়া বাজারে মিলতই না। গ্রীষ্মকাল ছিল সবজির আকালের সময়। গত এক যুগে পরিস্থিতি বদলে গেছে। কৃষক, কৃষিবিদ, সরকার আর বেসরকারি উদ্যোগ্তাদের সম্বলিত প্রচেষ্টায় এখন প্রায় সারা বছরই ২০ থেকে ২৫ জাতের সবজি খেতে পারছে দেশের মানুষ। দেশিয় চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সবুজ-শ্যামল বাংলায় ঘটে গেছে সবজিবিপ্লব। সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবাক করা সাফল্য নিয়ে লিখছেন শামস্ বিশ্বাস।

সবজির সাফল্য: 
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সবজির উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ। যা দেখে বলা যায় দেশে রীতিমতো সবজিবিপ্লব ঘটে গেছে। সবজি উৎপাদনের বার্ষিক বৃদ্ধির হারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। এখানে উৎপাদন বেড়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। শীর্ষ স্থানে থাকা উজবেকিস্তানে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নেপালে এই হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) –এর মতে সবজি উৎপাদনের বার্ষিক বৃদ্ধির এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। একসময় দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোরেই কেবল সবজির চাষ হতো। এখন দেশের প্রায় সব এলাকায় সারা বছরই সবজির চাষ হচ্ছে। এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০টি জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। এসব সবজির ৯০ শতাংশ বীজই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে এক কোটি ৩৮ লাখ টন সবজি উৎপাদিত হয়েছে। গত তিন বছরে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল ৬ শতাংশের বেশি। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রায় ২৫ হাজার টন আলু রপ্তানি হয়েছে। গত নভেম্বরে (২০১৪) ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির আগ্রহ দেখিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। অথচ এর আগে বিশ্বের ২০টি দেশ থেকে বাংলাদেশকে আলু আমদানি করতে হতো। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে আলু উৎপাদনের পরিমাণ ৯৬ লাখ টন।
দেশের মোট কৃষিজমির পরিমাণ কমলেও সবজি চাষের এলাকা বেড়েছে। কারণ, জমির পাশের উঁচু স্থান, আইল, বাড়ির উঠান, এমনকি টিনের চালাতেও এ দেশের কৃষকেরা সবজির চাষ করছেন। এমনও দেখা গেছে, ফলবাগান ও বাড়ি-রাস্তার পাশের উঁচু গাছের মধ্যেও মাচা করে সবজির চাষ করছেন অনেক কৃষক। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার স্ট্যাটিসটিক্যাল ইয়ারবুক-২০১৩ অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে সবজির আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে বাংলাদেশে, বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপালে, ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সিরিয়ায়, ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ১৯৬০ সালে যেখানে কৃষি পরিবারের সংখ্যা ছিল ৫০ লাখ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৬২ লাখ। এই কৃষকদের প্রায় সবাই পারিবারিকভাবেই উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এই কৃষক পরিবারগুলোর প্রায় সবাই কমবেশি সবজি চাষ করে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সবজির উৎপাদনের সাথে সাথে বেড়েছে  ভোগের পরিমাণও। গত এক যুগে দেশে মাথাপিছু সবজির ভোগ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে ২০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে দেশে মাথাপিছু দৈনিক সবজি খাওয়া বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৪২ গ্রাম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) হিসাবে গেল বছর দেশে মাথাপিছু সবজি ভোগের পরিমাণ হয়েছে ৭০ গ্রাম। তবে এখনো বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। জাতিসংঘের এই সংস্থাটির হিসাবে একজন মানুষকে দৈনিক ২২৫ গ্রাম সবজি খেতে হবে।

এই বিপ্লবের বিপ্লবী যারা:
 দেশে সবজি উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে উন্নত বীজের ব্যবহার। দেশে টমেটো, লাউ, কপি, উচ্ছে, গাজরসহ বেশির ভাগ সবজি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা গ্রীষ্মকালীন টমেটো, পেঁয়াজ, লাউ, করলাসহ বেশ কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। বেসরকারি বেশ কয়েকটি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বছরে বীজের চাহিদা সাড়ে চার হাজার টন, যার ৭০ শতাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারজাত করে। এই বীজের ৬০ শতাংশ হাইব্রিড জাতের এবং বাকি ৪০ শতাংশ বারির বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত আধুনিক ও দেশি জাতের। বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে, ২০ বছর ধরে দেশে বীজের চাহিদা সাড়ে চার হাজার টনই রয়েছে। তবে আগে বেশির ভাগ বীজ ছিল দেশি জাতের। এখন হাইব্রিড এবং আধুনিক জাতের বীজ আসায় উৎপাদন বেড়েছে।

রপ্তানি আয়: 
 ১৯৭৫ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি শুরু হলেও ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্ববাজারে ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে বাংলাদেশের সবজির চাহিদা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে বাংলাদেশের ৫০ জাতের সবজি ও ফলমূল রপ্তানি হয়। আর এই রপ্তানি থেকে বছরে আয় হচ্ছে ৬০০ কোটি টাকা অধিক। গত এক বছরে শুধু সবজি রপ্তানি আয়ই বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ হার বজায় থাকলে আগামীতে সবজি রপ্তানি খাতে আয় ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের শাক-সবজির ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু চাহিদার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬৫০ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকার  সবজি রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সবজি যায় সৌদি আরবে। এর পরেই রয়েছে কাতার, ওমান, আরব আমিরাত, লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। বাংলাদেশের সবজির প্রধান ক্রেতা প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা।

প্রতিবন্ধকতা:
 কৃষক হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে ফসল উৎপাদন করছে তাতে অনেক সময় তাদের মূল খরচের পয়সাও ওঠে না। এমনকি বাম্পার ফলনের পরও সংরক্ষণ সুবিধার অভাব, রাজনৈতিক দুর্যোগে সরবরাহপ্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়াসহ নানা কারণে কৃষককে নিঃস্ব হয়ে যেতে হয়। এ বছর লাখ লাখ চাষি হরতাল-অবরোধে তাদের পণ্য নিয়ে যখন দিশাহারা।
রপ্তানিতে যে সমস্য প্রকট হয়েছে তা হল, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ সবজি রপ্তানি করা হয় তার অর্ধেকই যায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশ থেকে সবজি ও ফল রফতানি করা চালানে ত্রুটি পাওয়ায় সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এক বছরে রফতানি করা পণ্যের মধ্যে ১২০টি চালানে ত্রুটির কথা জানিয়ে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান করা না হলে ফল ও সবজি রফতানি আদেশ বাতিলের হুমকি দিয়েছে ইইউ। বাংলাদেশের চালানের মধ্যে কাঁকরোলে মাছি ও পোকা; লেবুতে ব্যাকটেরিয়া; আলু, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজিতে পোকা পাওয়া গেছে। কিছু অসাধু রপ্তানিকারক মানহীন পণ্য রফতানি করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত এক যুগে দেশে মানসম্মত সবজির উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে রফতানিও বেড়েছে। ঠিক এ সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সনদ জালিয়াতি করে মানহীন সবজি রফতানির কারণে ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমন অবস্থায় ত্রুটির কারণে রপ্তানিতে বাজার হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইইউ ইতিমধ্যে কিছু পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, বেগুন, পটোল ও ধুন্দল। ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ায় অনেক দিন থেকে পান রফতানি বন্ধ আছে।

সরকারের গৃহীত উদ্যোগ:

রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বছরে সবজি রপ্তানি থেকে আয় হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ইউরোপের ২৭টি দেশে শতভাগ স্যালমোনিলা মুক্ত পান ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত শাকসবজি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিদেশে বাংলাদেশের শাকসবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ রপ্তানি করতে পারছেন উদ্যোক্তারা। এ কারণে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া, রোগবালাই ও পোকামাকড় দূর করে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি, উপযুক্ত ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেটসহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রপ্তানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  ইতিমধ্যে জালিয়াতির অভিযোগে ২টি প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে এবং ১২ প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ত্রুটি রোধে সতর্কতার পাশাপাশি একটি কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে ইইউ। এ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সবজির উৎপাদন পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ইইউর কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রগতি হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হবে। কিছু বিষয় রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে উন্নীত হবে।

চাই যে সব পদক্ষেপ:

অনেক সময় বাম্পার ফলন হলে চাহিদা পূরণের পর ফসল তার উপযুক্ত দরও পায় না। তখন পানির দরে সব বিকিয়ে দিতে হয়। এ জন্য হলেও বিদেশের বাজার ধরার ক্ষেত্রে আমাদের আরো উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নজর দিতে হবে সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন, প্যাকেজিং পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের ওপরও। বেসরকারি উদ্যোগ্তাদের মতে, সরকার যদি সবজির জন্য কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ হিমাগার ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ পরিবহনের ব্যাপারে সহযোগিতা করে, তাহলে ইউরোপ ও আমেরিকার সুপারস্টোরগুলোতে আমাদের দেশি সবজি বিক্রি হবে।
রপ্তানি সনদ পেতে অনেক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে পণ্য যাচাই-বাছাই করে সঠিকভাবে দ্রুত সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলেও, আমলা তান্ত্রিক জটিলতার জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তারা নিরুসাহি হয়ে পড়ে। সবজি রপ্তানির এ খাতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের পাশাপাশি সরকারি অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সহায়তা দানের লক্ষ্যে সরকারের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা স্তরে দাপ্তরিক কাজেই তাঁরা বেশি ব্যস্ত থাকেন; তৃণমূলের চাষিদের সঙ্গে তাঁদের বাস্তবিক সংযোগ আর তৈরি হয় না। এ দূরত্ব কাটাতে হবে। এছাড়া সারা দেশজুড়েই কত রকমের ফসল ফলে। তাই প্রণোদনা হতে হবে সর্বজনীন। কৃষকদের জন্য সরকারের তরফে কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণে ভর্তুকিসহ নানা ব্যবস্থা থাকলেও এ নিয়ে চলে দুর্নীতি। এসব দূর করতে হবে।
সেই সঙ্গে দেশের বাইরে নতুন নতুন বাজারও অনুসন্ধান করতে হবে। আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি কৃষি। খাতটিকে শক্তিশালী করা গেলে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে, মসৃণ হবে দারিদ্রতা নির্মুলের লক্ষ্যে পৌঁছার পথটি।কৃষকরা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবে, বেগবান হবে জাতীয় অর্থনীতি- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.