রাবার শিল্প

আমাদের দেশের রাবার শিল্প ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে রাবার শিল্প ইতিমধ্যে বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করেছে। দেশের রাবার শিল্প মালিকেরা লাভের মুখ দেখছেন। দেশে উৎপাদিত রাবার দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। আমাদের দেশের রাবার শিল্প প্রসঙ্গে লিখছেন মীর্জা মোহাম্মদ ফারহান সাদিদ

রাবারনামা

টানলে লম্বা হয় (“ইলাস্টিক”) এমন কয়েকটি নরম পদার্থ। প্রাকৃতিক রাবার হল রাবার গাছ (Hevea brasiliensis) বা একই পরিবারের (ইউফর্বিয়েসি Euphorbiaceae) এবং ডুমুর (fig) পরিবারের কয়েকটি গাছের জমাট বাঁধা তরুক্ষীর (latex)। রাসায়নিকভাবে রাবার হল বহু আইসোপ্রিন (isoprene) একক জুড়ে তৈরি দীর্ঘ জৈব পলিমার। রাবার গাছের দুধকষ থেকে প্রাকৃতিক রাবার তৈরি হয়। এই গাছের কাণ্ডের ছালে কোনাকুনিভাবে কাটা কয়েক মিলিমিটার গভীর গর্ত থেকে কষ সংগ্রহ করা হয়। গাছের প্রয়োজন পর্যাপ্ত রৌদ্রসহ উষ্ণ আর্দ্র জলবায়ু। সাধারণত ২ বছর বয়সী গাছ থেকে প্রথম কষ সংগ্রহ শুরু হয়। হেক্টরপ্রতি ২৫০টি গাছই যথেষ্ট। লাগানো গাছের মধ্যে কিছুটা ফাঁক থাকা প্রয়োজন যাতে নিচে নানা জাতের উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ আলো পৌঁছয়। গাছপ্রতি বছরে গড়পড়তা উৎপাদন প্রায় ২ কিলোগ্রাম রাবার।

রাবার বাগান মধ্যমাকৃতি এই গাছের কাণ্ড লম্বা, পাতা পুরু, গাঢ়-সবুজ। গাছের বৃদ্ধি ও জাত অনুযায়ী রাবার উৎপাদনে তারতম্য ঘটে। হেক্টরপ্রতি বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম, গাছপ্রতি ২ কিলোগ্রাম, কিন্তু উচ্চফলনশীল জাতও আছে, তাতে বার্ষিক ফলন হয় হেক্টরপ্রতি প্রায় ২২০০ কিলোগ্রাম।

রাবার গাছ সাধারণত ৩২-৩৪ বছর বয়সে উৎপাদন আয়ু শেষ করে। আয়ু অতিক্রান্ত গাছগুলি কেটে পুনঃবাগান সৃষ্টি করা হয়। এ সকল গাছ থেকে গড়ে ৫-৮ ঘনফুট গোল কাঠ পাওয়া যায়।

ফিরে দেখা

১৯১০ সালের কলিকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে রাবার গাছে চারা এনে চট্টগ্রামে বারমাসিয়া ও সিলেটের আমু চা বাগানে লাগানো হয়। দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে বন বিভাগ প্রথম ১৯৫২ সালে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকা হতে কয়েক হাজার রাবার বীজ ও কিছু বাডেড স্ট্যাম্প এনে পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও মধুপুর অঞ্চলে রোপণ করে। ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) একজন রাবার বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে রাবার চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন এবং তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তার সুপারিশের ভিত্তিতে বন বিভাগ ১৯৬০ সালে ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু, আর চট্টগ্রামের রাউজানে যথাক্রমে ৩০ এবং ১০ একর বাজার সৃজনের মাধ্যমে এদেশের বাণিজ্যিক রাবার চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষ হচ্ছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের রামু, রাউজান, ডাবুয়া, হলুদিয়া, কাঞ্চন নগর। তারাখো, দাঁতমারা, সিলেটের ভাটেরা, সাতগাঁও, রূপাইছড়া, শাহী বাজার, ময়মনসিংহের মধুপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এলাকাসহ লামার বিস্তীর্ণ এলাকা। সারা দেশে ১৩০৪ টি বেসরকারি রাবার বাগান রয়েছে। সারা দেশে ৩২৬২৫ একর জমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে।

রাবার উৎপাদন

১৯৬৭-৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে দেশে প্রথম বিএফআইডিসি শূন্য দশমিক সাত মেট্রিক টন রাবার উৎপাদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২-৭৩ সালে ৫৫ মেট্রিক টন এবং ১৯৭৮-৮৯ সালে ৪২৯ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদিত হয়। ২০০৮-০৯ সালে বিএফআইডিসি প্রায় ৬,১০০ মেট্রিক টন এবং প্রাইভেট সেক্টরে প্রায় ৫,৫০০ মেট্রিক টন রাবার উৎপাদিত হয়েছে। বিএফআইডিসি’র উৎপাদিত রাবার খোলা টেন্ডারে প্রতি কেজি ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে কেবলমাত্র ২০০৮-০৯ সালে দেশে উৎপাদিত ১১,৬০০ মেট্রিক টন রাবারের গড় বিক্রয়মূল্য ২৫৫ কোটি টাকা। ২০০৯-২০১০ সালে দেশে রাবারের চাহিদা ছিল ৪৪,৪০০ মেট্রিক টনে। যার মধ্যে দেশে উৎপাদন হয়েছ ১৩,৫০০ মেট্রিক টন এবং আমদানি হয়েছে ৩০,৯০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশে ২৪,০০০ মেট্রিক টন রাবার উৎপন্ন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৬০০ কোটি টাকা।

আয়

একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর বিদেশে রাবার রপ্তানি করে একশত কোটি থেকে দেড়শত কোটি টাকা আয় করেছে। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)’র পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,  সদ্যসমাপ্ত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাবার ও রাবার জাতীয় পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের আয় হয়েছিল ১ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার।  ২০১২-১৩ অর্থবছরে এ খাতে রফতানি আয় হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১০-১১ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে রাবার ও রাবার জাতীয় পণ্য রফতানিতে বাংলাদেশের আয় ছিল যথাক্রমে ২ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার এবং ১ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৮ মাসে এইখাত থেকে এসেছে ১ কোটি ১৬ লক্ষ মার্কিন ডলার।

যে সব দেশে রপ্তানি হয়

সংযুক্ত আরব আমিরাত, আফগানিস্তান, বেলজিয়াম, সেন্ট, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, ফিজি, জার্মানি, গ্রীস, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ভারত, ইতালি, জাপান, কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মরিশাস, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ড, নেপাল, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, কাতার, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম।

সঙ্কট

দেশের মাটিতে সাদা সোনার (রাবার) বিপ্লব ঘটলেও দর পতনের কারণে রাবার শিল্প বর্তমানে হুমকির মুখে। জনবলের অভাবে সংকটে পড়েছে রাবার শিল্প। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহনের অভাব ও রাবার পাচার। নানা সমস্যায় দিন দিন ধ্বংসের পথে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় এ শিল্প।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সময়োপযোগী কোনো পদক্ষেপ নেই। যথাযথ পরিচর্যা করলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রাবার রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বারার শিল্পের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অবহেলার কারণে রাবার শিল্পের আজ বেহাল দশা। অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে গাছ টেপিং করার ফলে গাছের উৎপাদনক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। রাবার শিল্পের উন্নয়নে বোর্ড মিটিংগুলোয় শ্রমিক প্রতিনিধি রাখার বিধান থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। ফলে বাগানের উন্নয়নে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ প্রদান করা সম্ভব হয় না। এছাড়া বাগানের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হলে শূন্য পদ পূরণসহ দক্ষ লোকদের যথাযথ স্থানে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া রয়েছে মূলধন স্বল্পতায়। এ কারণে, ধুঁকছে দেশের সম্ভাবনাময় রাবার শিল্প। কৃষিপণ্য না হওয়ায় একদিকে রাবার চাষিরা পাচ্ছেন না স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণ। অর্থের অভাবে বেছে নিচ্ছেন অন্য ফসলের চাষ। কৃষক পর্যায়ে কাঁচা রাবারের উৎপাদন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। জানা গেছে, মূলধনের অভাব, অবকাঠামো দুর্বলতা, জমির স্বল্পতা ও যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে রাবার চাষে উত্সাহ হারিয়ে ফেলছেন দেশের উদ্যোক্তারা। ফলে দেশীয় পর্যায়ে এর উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কাঁচামাল স্বল্পতায় রাবার শিল্পমালিকরা পারছেন না চাহিদা অনুযায়ী রাবার পণ্য উৎপাদন ও রফতানি করতে। বিগত বছর গুলোতে রাবারের প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে বাজার দর পতনে প্রতি কেজি রাবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে। বর্তমানে দেশের রাবার শিল্পের স্বার্থে বিদেশ থেকে রাবার আমদানি বন্ধ করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। রাবার বাগান মালিকরা রাবার উৎপাদনে সফলতা করতে রাবার চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণ উৎপাদিত রাবারের মান উন্নয়ন, বিপণন, ভবিষ্যতে রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি করা এবং রাবারের আন্তর্জাতিক মূল্যের সাথে সমন্বয় করে দেশীয় রাবারের বাজার মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার স্বার্থে জাতীয় রাবার নীতি ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছেন। রাবার শিল্পের উন্নয়নে রাবার গবেষণা ইন্সটিটিউট স্থাপন করাও প্রয়োজন রয়েছে।

সম্ভাবনা

দেশে এক সময়কার অবহেলিত রাবার চাষ এখন ক্রমেই জনপ্রিয় ও আর্থিকভাবে একটি বড় শিল্প হিসেবে পরিণত হতে চলেছে। সরকার রাবার চাষের উন্নয়ন ও গবেষণায় নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফলে সাধারণ মানুষ পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে রাবার চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। আমাদের দেশের গবেষক ও বিজ্ঞানীরা সফল গবেষণার মাধ্যমে রাবার গাছের উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবনে সাফল্য দেখিয়েছে। ইতিমধ্যে পূর্ণাঙ্গ রাবার বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রামে রাবার চাষের সম্ভাবনা ও গুরুত্ব বেশি থাকায় চট্টগ্রামেই রাবার বোর্ডের সদর দফতর স্থাপন করা হয়েছে।

২০১২ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায় বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাবারের চাহিদা ৩ শতাংশ হারে বেড়েই চলেছে। যার চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭শতাংশ।

রাবার বাগান মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩০ হাজার টন রাবার উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ১৫ হাজার টন। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিমাসে ৫০০ টন রাবার রফতানির অর্ডার পাওয়া গেলেও উৎপাদন ঘাটতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় বাজারে এক কেজি কাঁচা রাবারের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম ২৩৮ থেকে ২৪০ মার্কিন ডলার। তাই এ খাত থেকে বছরে কমপক্ষে বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। ভৌগোলিক সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের পক্ষে অন্যতম রাবার রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাবার আমদানিকারক পশ্চিমা দেশগুলোর গন্তব্য আগে হওয়ার কারণে তাদের অনেকেরই সহজ গন্তব্য হতে পারবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশী রাবারের ভারত, পাকিস্তান এবং তুরস্কে ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশ্বে প্রাকৃতিক রাবারের মোট চাহিদার ৯৪ শতাংশ পূরণ করে এশিয়া। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন হয় ৭২ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় প্রায় ৪০০ রাবারভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। স্বাধীনতার আগে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫টি। বর্তমানে রাবার দিয়ে ১লক্ষ ২০ হাজার ধরনের দ্রব্যসামগ্রী তৈরি হচ্ছে। রাবার দিয়ে প্রধানত গাড়ীর চাকার টায়ার, টিউব, জুতার সোল, স্যান্ডেল, ফোম রেক্সিন, হোমপাইপ, গাম, খেলনা, রাবার শিট, ডোর, ম্যাট্রিস, বেল, হোস পাইপ, বাকেট, গ্যাসকেট, ওয়েলসিল, অটোমোবাইল পার্টস, টেক্সটাইল জুট স্পেয়ার্স গামবুট, বেলুনসহ শিল্প কারখানার দ্রব্য সামগ্রী চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন সামগ্রীসহ গৃহস্থলী কাজের ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানায় একটি ল্যাটেক্স (রাবার) কনসেনট্রেটেড কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নিকট অতীতেও বাংলাদেশে রাবার কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে বিএফআইডিসি’র রাবার গাছ হতে আহরিত কাঠ কর্পোরেশনের কাঠ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ইউনিটে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ট্রিটমেন্ট ও সিজনিং করে উন্নতমানের আসবাবপত্র যথা: সোফাসেট, খাট, দরজা-জানালা ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। রাবার কাঠ প্রায় প্রথম শ্রেণির কাঠের মত শক্ত, টেকসই ও উন্নতমানের। এ শিল্পে কর্মসংস্থানও হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষের।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.