বর্ষাকালে পদ্মা নদী

বাংলাদেশের নদী

নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে ছিল প্রচীন জনপদগুল। এ জন্য বাংলাদেশ যে একটি প্রাচীন জনপদ তা সর্বজনস্বীকৃত ও প্রমানিত। রামায়ণ, মহাভারতসহ প্রাচীন অনেক রচনায় বঙ্গের জনপদগুলোর নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। বঙ্গ, পুণ্ড্রবর্ধন, সমতট, হরিকেল, রাঢ় ইত্যাদি নিয়েই আজকের বাংলাদেশ গঠিত। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ( প্রকৃত নাম স্বর্গীয় শরৎনাথ ভট্টাচার্য) চর্যাপদ উদ্ধার করে প্রমাণ করেছেন বাংলা হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য । উত্তর থেকে জলকণা বয়ে নিয়ে এসে দক্ষীণে সাগরের সাথে মিশেছে মোহনায় গড়েছে বদ্বীপ; তীলে তীলে তৈরী হয়েছে এক সমৃদ্ধ শীল্প ও সংষ্কৃতি। নদী বাংলাদেশের জীবনধারায় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাসাহিত্যের রথীমহারথীরা নদী নিয়ে বিস্তর কবিতা/গান/উপন্যাস লিখে বাংলার মানুষের নদীসংল্গনাতাকেই তুলে ধরেছেন। রবিঠাকুরের ‘রূপনারাণের কূলে’ (গঙ্গার প্রাচীন নাম), নজরুলের ‘পদ্মার ঢেউ রে..”, মধুসূদনের ‘কপোতাক্ষ নদ’, মানিকের ‘পদ্মা নদীর মাঝি,, অদ্বৈতমল্ল বর্মনের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ আহসান হাবীবের ‘মেঘনাপারের ছেলে’, হূমায়ুন কবীরের ‘বাঙলার কাব্য’ ইত্যাদি। ষড়ঋতুতে নদীর রূপ সৈন্দর্যে আসে নানা পরিবর্তন। গ্রীষ্মে যেখানে শুকনো মৃতপ্রায়, বর্ষায় উন্মক্ত যৌবন, শরতে কশফুলে ভরা, হেমন্তে দুপাড়ে ফসলে ভরা, শীতে ধীরস্থীর শান্ত বসন্তে হারিয়ে যেতে থাকা।

বর্ষায় দেশের ২৩০ টি নদী যেন নতুন রূপে দৃশ্যমান। এ সময় গাঁয়ের বধূরা নায়রে যায়। শহরে সৌখিন নাগরীকেরা দল বেঁধে আয়েজন করে নৌকা ভ্রমনের, গঞ্জে আয়োজন করা হয় নৌকা বাইচের। বর্ষা আসলে বাঙালী জীবনে শুরু হয়ে যায় নদী কেন্দ্রীক উৎসববের।

বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রধান নদীসমূহ
বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রধান নদীসমূহ

নদীপথে যাতায়াত সুবিধা এবং নদী উপত্যকাসমূহের পলিমাটি উৎকৃষ্ট কৃষিভূমি হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সভ্যতাসমূহ নদী উপত্যকায় গড়ে উঠেছে। নাব্য নদ-নদীসমূহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নগর গড়ে ওঠার ক্ষেতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রধান শহর, নগর ও বাণিজ্যকেন্দ্রসমূহ বিভিন্ন নদীর তীরে গড়ে উঠেছে; যেমন-” বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঢাকা মহানগরী, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর, কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ময়মনসিংহ শহর গড়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত প্রবাহ, গতিবেগ এবং নতিমাত্রাবিশিষ্ট নদী থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।

বাংলাদেশের নদীমালা এর গর্ব। এখানে প্রায় ৭০০টি নদী-উপনদী সমন্বয়েয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নদীব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশের নদ-নদীর মওট দৈঘ ২৪,১৪০ কিমি। ছোট ছোট পাহাড়ি ছড়া, আকাবাঁকা মৌসুমি খাড়ি, কদর্মপূর্ণ খালবিল, যথার্থ দৃষ্টিনন্দন নদ-নদী ও এদের উপনদী এবং শাখানদী সমন্বয়ে বাংলাদেশের বিশাল নদীব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে। দেশের প্রবাহিত নদীগুলোর মধ্যে মধ্যে দৈর্ঘের দিক থেকে ব্রত্হ্মপুত্র নদ বিশ্বে ২২তম (২,৮৫০ কিমি) এবং পদ্মা (গঙ্গা) নদী ৩০তম (২,৫১০ কিমি) স্থানের অধিকারী।

বর্ষাকালে পদ্মা নদী
বর্ষাকালে পদ্মা নদী

পদ্মা নদী: পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী। এর ভারতীয় অংশের নাম গঙ্গা। এর উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহ। এটি ভারত থেকে বাংলাদেশে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা হয়ে প্রবেশ করেছে। আরিচাতে এটি যমুনা নদীর সাথে মিশেছে, এবং পদ্মা নামেই পরে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। অত:পর মেঘনা বঙ্গোপসাগরে শেষ হয়েছে।পদ্মা ১২০ কিমি দীর্ঘ এবং ৪ থেকে ৮ কিমি প্রশস্ত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়ালন্দ-চাঁদপুর স্টিমার চলাচল পথের অধিকাংশই এই নদী জুড়ে। পদ্মার সৌন্দযের আরেকটি আদাঁর এ জলপথ।

রাজশাহী শহর এই পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এখন প্রমত্তা পদ্মা। এর বুকে এখন ধু-ধু বালুচর। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কিংবা রাজশাহী শহরের পাশ দিয়ে এককালে প্রবাহিত পদ্মার চর এখন দর্শনীয় স্থান। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসব জায়গায় ঘুরতে আসে মানুষ। তারা বালুর ওপর দিয়ে কিংবা মৌসুমি ফসলের ক্ষেতের সরু আল দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যায় পদ্মা দর্শনে। কিন্তু পদ্মার দর্শন মেলে না। হয়তো কখনও দেখা মেলে মাইলের পর মাইল চরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা সরু কোনো খালের।

পদ্মার এই হাল হয়েছে নদীটির উজানে ভারত ২৪টি ব্যারাজ এবং চারশ’র মতো ড্যাম নির্মাণ করায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ফারাক্কা ব্যারাজ (৭৩৬৩ ফুট ৬ ইঞ্চির)। ১৯৭৪ সালে পদ্মার বুকে ভারত তাদের অংশে নির্মাণ কাজ শেষ করে। এক বছর পরে ১৯৭৫ সালে শুরু হয় এর কার্যক্রম পদ্মা হারাতে থাকে তার সব সৌন্দর্য। এক সময় পদ্মার শ্রোতোর গর্জনে ঘুম আসতোনা পদ্মার তীরের বাসিন্দাদের। এখন সেখানে হাহা কার। আব্দুল আলীমের গাওয়া গান ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ আজ যেন শুধু স্মৃতি হাতড়ে বেড়ানো।

মেঘনা নদী: মেঘনা নদী বাংলাদেশ এর একটি অন্যতম প্রধান নদী। পূর্ব ভারতের পাহাড় থেকে উদ্ভূত মেঘনা নদী সিলেট অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে চাঁদপুরের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগর এ প্রবাহিত হয়েছে।মেঘনার নদীর বিস্তৃতি প্রায় ১১ কি.মি এবং দৈর্ঘ্য ১৬০ কিমি।

মেঘনা অত্যন্ত গভীর এবং নাব্য একটি নদী। সারা বছরই নদীতে নৌচলাচল সম্ভব হয়। ছোটবড় নৌকা এবং স্টিমার প্রায় সারা বছরই এই নদী পথে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নারায়ণগঞ্জ জেলার বৈদ্যেরবাজার পর্যন্ত মেঘনাতে জোয়ারভাটার প্রভাব পরিদৃষ্ট হয়। শুকনো মৌসুমে এই জোয়ারভাটা রেখা ব্রক্ষ্ণণবাড়ীয়া জেলার মারকুলি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। ষাটনল, চাঁদপুর, দৌলতখান এবং চর তজুমুদ্দিনে মেঘনা নদীর পানিতে লবণাক্ততা পাওয়া যায়।

সুরমা-মেঘনার উভয় তীরে বহু জনপদ, শহর, বন্দর, কল-কারখানা গড়ে উঠেছে। সেগুলর মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা প্রভৃতি জেলা শহর উল্লেখযোগ্য। নৌ ও বাণিজ্য বন্দর হিসেবে মারকুলি, আজমিরীগঞ্জ, মদনা, কুলিয়ারচর, ভৈরব বাজার, চাঁদপুর (পুরান বাজার), রামদাসপুর, কালুপুর, দৌলতখান প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। আশুগঞ্জ তাপ-বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা এই নদীর তীরে অবস্থিত।হাওর এলাকার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা বন্যাপ্রবণ একটি নদী। বর্ষার শুরুতেই হাওর এলাকা বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। হাওরের এই সঞ্চিত পানি ও বিভিন্ন পাহাড়িয়া নদী থেকে প্রাপ্ত প্রবাহ এবং সুরমা-মৈঘনা নদী এই বিপুল জলরাশি ধারণ করতে না পারায় প্রতি বর্ষার শুরুতে অকাল প্লাবণ দেখা দেয়।

যমুনা নদী: যমুনা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি নদীর একটি। এটি ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান শাখা, যা গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা নদীর সাথে মিশেছে। ১৭৮৭ সালের বন্যায় ব্রহ্মপুত্র নতুন খাতে প্রবাহিত হয়ে এই নদীর সৃষ্টি করেছে। উৎপত্তিস্থল হতে এর দৈর্ঘ্য ২৪০ কিলোমিটার। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই যমুনার প্রধান উপনদী।

দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনা এখন পানির কাঙাল। পানি নেই, তাই শুকিয়ে জেগে উঠেছে বালুচর হয়ে। মাইলের পর মাইল শুধুই এই চর। পানির অভাবে নদী পরিণত হয়েছে জলজ্যান্ত মরুভূমিতে। আর রুক্ষ প্রকৃতি এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এনে দিয়েছে অনাকাক্সিক্ষত মরুময়তা। যমুনা এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অনবরত রুক্ষ থেকে রুক্ষ হয়ে উঠছে। শুকনো মৌসুম পুরোপুরি শুরু হতে না হতেই সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য চরের। বিস্তার ঘটেছে মাইলের পর মাইল। পানি বলতে কিছুই নেই। কিছু কিছু জায়গায় অবশ্য ডোবার মতো হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম না আসা পর্যন্ত এগুলোর পরিবর্তন হবে না। দেখা গেল, যেখানে প্রমত্ত নদীর পানিতে উথাল-পাতাল অবস্থা থাকার কথা, সেখানে কিছু মানুষ বসতি গড়ে তোলা শুরু করেছেন। বানাচ্ছেন ঘরবাড়ি। কেউ কেউ ধানের আবাদও করছেন। সব মিলিয়ে উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জসহ ৪টি জেলার চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। প্রাকৃতিক বিরূপ প্রভাবে এলাকার পরিবেশও রুক্ষ হয়ে পড়েছে।

নিয়মিত ড্রেজিং না করার কারণে এ অবস্থা হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে যমুনা নদী দিয়ে খুব সহজেই পারাপার হওয়া যাবে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও মূল নদীর অস্তিত্বই আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ এ নদীকে সেতুর স্বার্থে গাইড বাঁধ দিয়ে আটকানোর ফলে স্বচ্ছন্দ গতি হারিয়েছে যমুনা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ১২১টি পাইলের ওপর ৫০টি পিলার থাকায় এগুলো নদীর স্রোতকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে যমুনা হারিয়েছে তার যৌবন। সেসঙ্গে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এর বহু শাখা নদী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ কারণে দেশের এক বৃহদাংশে পরিবেশ বিপর্যয়ের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯৯৮ সাল থেকেই যমুনা নদীতে ব্যাপক চর পড়া শুরু হয়। সময়ের ধারাবাহিকতায় আজ সেই চরের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় দিকে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বালুচর। এ বালুচরে অস্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে মানুষ। বন্যা এলেই তারা আশ্রয় নেয় নদীর পাড়ে অথবা কোনো উঁচু জায়গায়। আর পানি সরে যাওয়ার পর নতুন করে চরের সৃষ্টি হলে আবারো বাঁধে ঘর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, এক সময় যমুনা নদীর নীল পানি আর প্রবল ঢেউ দেখে ভয় লাগতো। আজ থেকে ২০/২৫ বছর আগেও গভীর পানি থাকতো নদীতে। কখনো কখনো বালির চর দেখা যেত বটে, তবে তার মধ্য দিয়েই থাকতো নদীর পানির স্রোতধারা। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম না এলে এমনটি আর দেখা যায় না। অনেকের মন্তব্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একদিন যমুনা নদী হবে রূপকথার গল্পের মতো। ধারণা পাওয়া যায়, বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের তা-ব থাকলেও বালির চরের প্রত্যাশা কখনই করে না বসতির মানুষ। কারণ নদীতে পানি না থাকলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে ঠিকমতো পানি না ওঠায় এলাকায় দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। তখন তাদের অনেক দূর পাড়ি দিয়ে খাবার পানি আনতে হয়। শুধু তাই নয়, ভয়াবহ সেচ সংকটের সম্মুখীন হতে হয় তাদের। যমুনার বুকে বালির চর জেগে ওঠায় সিরাজগঞ্জবাসীকেও নানা সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া ফিবছর সরকারকেও এদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য গ্রহণ করতে হয় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প। আর তাতেও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ।

ভারতের আসাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী থানার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে। এরপর তা যমুনা নাম ধারণ করে আরিচার কাছে পদ্মা নদীতে মিলেছে। বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২শ কিলোমিটার। এছাড়া এ নদীর শাখা ও উপনদীর দৈর্ঘ্য দেড় হাজার কিলোমিটার।

কর্ণফুলী: কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী। এটি দেশের এক মাত্র খরস্রোতা নদী । এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে শুরু হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমূদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।

কর্ণফুলী নদীর নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে যে, আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক আদিবাসী রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জ্যোৎস্না স্নাত রাতে তাঁরা দুই জন এই নদীতে নৌভ্রমণ উপভোগ করছিলেন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানে গোঁজা একটি ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা সেটা উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান, তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যায় নাই। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন, কিন্তু সফল হন নাই। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এই করুন কাহিনী থেকেই নদীটির নাম হয় কর্ণফুলী। মার্মা আদিবাসীদের কাছে নদীটির নাম কান্সা খিওং।

কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয় ১৯৬৪ খ্রীস্টাব্দে। এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।দুই তীরে জমছে বর্জ্য, আর জলের নিচে পলি। তীরে আর চরে প্রতি বছর গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন স্থাপনা। অবৈধ দখলদারদের তৎপরতায় ‘চুরি’ হয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ‘প্রাণ’ কর্ণফুলী। গত ২০ বছরে স্থানভেদে এ নদীর প্রস্থ কমেছে ৫০ থেকে ২৭০ মিটার পর্যন্ত।

প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রেজিং না হওয়ায় খরস্রোতা এই নদীর গভীরতাও কমেছে বিভিন্ন স্থানে। শাহ আমানত সেতু থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় বার বার বিঘিœত হচ্ছে কর্ণফুলীর স্বাভাবিক গতি; জেগে উঠেছে চর।

বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগে ওঠা এসব চরে প্রতিবছরই নতুন নতুন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও দখলদারদের থামাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ন্ত্রিত কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন সমুদ্র এলাকার জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৯-৯০ সালে নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার ব্রিজঘাট বরাবর নদীর প্রস্থ ছিল ৮৭০ মিটার। ২০০৯-১০ সালে তা ৬০০ মিটারে এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০ বছরে ওই স্থানে কর্ণফুলী প্রস্থে কমেছে ২৭০ মিটারের মতো

১৯৮৯-৯০ সালে নগরীর চাক্তাই খালের মুখ বরাবর কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ছিল ৬৫০ মিটার। ২০০৯-১০ এ তা ৬০০ মিটারে ঠেকেছে। ওই স্থানে নদীর প্রস্থ কমেছে প্রায় ৫০ মিটার

বুড়িগঙ্গা: বুড়িগঙ্গা নদী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। ব্রহ্মপুত্র আর শীতলক্ষ্যার পানি এক স্রোতে মিশে নতুন একটি স্রোত বয়ে চলে। সেই স্রোতটির নাম হয় বুড়িগঙ্গা নদী। অনেকের মতে বুড়িগঙ্গা নদী আগে গঙ্গা নদীর মুলধারা ছিল। তবে বর্তমানে এটা ধলেশ্বরীর শাখাবিশেষ।

নদীর নামকরণ বুড়িপঙ্গা করার পেছনে একটি পৌরনিক কাহিনী রয়েছে। প্রচীন কালে গঙ্গা নদীর একটি প্রবাহ ধলেশ্বরীর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো। ধীরে ধীরে এই প্রবাহটি তার গতি পরিবর্তন করার ফলে একসময় গঙ্গার সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে এই বিচ্ছিন্ন প্রবাহটির নাম হয় বুড়িগঙ্গা।

মুগলরা বুড়িগঙ্গার জোয়ারভাটার রূপ দেখে বিষ্মিয়াভিভূত হয়ে পড়েছিল। বুড়িগঙ্গার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করেছিলেন বাংলার সুবাদার মুকাররম খাঁ। তার শাষণামলে শহরের যেসকল অংশ নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, সেখানে প্রতি রাতে আলোক সজ্জা করা হতো। এছাড়া নদীর বুকে অংসখ্য নৌকাতে জ্বলতো ফানুস বাতি। তখন বুড়িগঙ্গার তীরে অপরুপ সৌন্দের্য্যের সৃষ্টি হতো।

১৮০০ সালে টেইলর বুড়িগঙ্গা নদী দেখে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- বর্ষাকালে যখন বুড়িগঙ্গা পানিতে ভরপুর থাকে তখন দুর থেকে ঢাকাকে দেখায় ভেনিসের মতো। তবে বুড়িগঙ্গার আগের ঐতিহ্য এখন আর নেই। কালের বিবর্তনে দখল আর দূষণের শিকার বুড়িগঙ্গা নদী।

শীতলক্ষ্যা নদী: শীতালক্ষ্যা নদী (যা লক্ষ্ম্যা নদী নামেও পরিচিত) হল ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। এর গতিপথের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের পূর্ব দিয়ে কালাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীর সাথে মিশেছে। এর উপরিভাগের একটি অংশ বানর নদী নামে পরিচিত। নদীটি প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বা এবং নারায়ণগঞ্জের নিকটে এর সর্বোচ্চ প্রস্থ প্রায় ৩০০ মিটার। এর সর্বোচ্চ প্রবাহ ডেমরার কাছে ২,৬০০ কিউসেক। সারা বছর ধরে এর নাব্যতা বজায় থাকায় সারা বছর নৌ চলাচলের উপযোগী। এর ভাঙন প্রবণতা কম।

বাংলার একালের বিখ্যাত মসলিন শিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে নদীর উভয় তীরে প্রচুর পরিমাণে ভারি শিল্প-কারখানা গড়ে উঠছে। অধুনালুপ্ত পৃথিবীর বৃহত্তম পাটকল ‘আদমজী জুট মিল’ শীতলক্ষ্যা  তীরে অবস্থিত ছিল। এই নদীর তীরে ঘোড়াশালের উত্তরে পলাশে তিনটি এবং সিদ্ধিরগঞ্জে একটি তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা তার পানির স্বচ্ছতা এবং শীতলতার জন্য একদা বিখ্যাত ছিল। বছরের পাঁচ মাস নদীটি জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্রভাবিত থাকে, কিন্তু কখনোই কৃল ছাপিএয় যায় না।

দেশের নদীগুলোর এলাকা ভিত্তিক তালিকা

রংপুর: দুধকুমার, রাইডাক, ধরলা, তিস্তা, স্বাতি, বুড়িখোড়া-চিকি, খারভাজা, ঘাগট, যমুনেশ্বরী, আখির, খারখরিয়া, বাসমাই, দেওনাই, চিকি, নীলকুমার, ভরোলা, গদাধর, সনকোশ, নোয়াডিহিং, ডিসাঙ্গ, ডিখু, কালাঙ্গ, কাপিলি, তিতাস-গিরি, ব্রহ্মপুত্র: (২৫টি)।

দিনাজপুর: পাথরাজ, তালমা, পুনর্ভবা, চেপা, টাঙ্গন, ডাহুক, ঘোড়ামারা, যমুনা, কোরাম, আত্রাই, কুলিকা, বড়াল, গর্ভেশ্বরী, যমুনেশ্বরী, জলঢাকা, তোরসা, কল্যাণী, রাইদক: (১৮টি) ।

রাজশাহী: ফকিরনী-বারানাই, শিব-বারানাই, মহানন্দা, পাগলা, মুসা খান, গঙ্গা, বারানাই, হোজা, গোদারি, গুমানি; (১০টি) ।

পাবনা: গুর, বগুড়া-ইছামতী, বড়াল, হুরাসাগর, দুর্গাদহ, সুখদহ, বগুড়া (ইউসিয়াম), তালান; (৮টি) ।

বগুড়া:  করতোয়া, কথাকলি, বাঙালি, তুলসী গঙ্গা, ছোটো যমুনা, নসার, বাদল: (৭টি) ।

ঢাকা: বংশী, তুরাগ, টঙ্গীখাল, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, কালীগঙ্গা, গাজীখাল, বানার, বালু, লক্ষ্যা, লৌহজং, ফুলদি, ভুবনেশ্বরী, কীর্তিনাশা বা শ্রীপুর (শীতলক্ষ্যা), ইছামতী, মালিক বাদের খাল, গাজাহাটার খাল, ইলশামারী; (১৮টি)।

ময়মনসিংহ: ঝিনাই, আইমন, সুতিয়া, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঘরোটা নদী, সিমাহালি, নরসুন্দর, বোথাই, নিতারী, সোমেশ্বরী, কংশ, গুনাই, কাচামাঠিয়া, পানকুরা, সাইদুল, মোগরা, রাংরা, খারমোরী, মহাদেব, যদুকাটা, ধানু, বোয়ালাই, শিরখালি, চেল্লাখালি, মতিচিক, চালহি, বংশাই, মানস, পুতিয়া, জিনজিরাম, সুবনফিরি, বলেশ্বর, ভোগাই কংসা, কউলাই, ধনু, সিলাই, খারমেনি: (৩৭টি)।

সিলেট: সুরমা, পিয়াইন, সারি গোয়াইন, বাগরা গাঙ, নওয়া গাঙ, শেওলা, ধামালিয়া, মনাই বড়দাল, জুরি, মনু, ধলাই, লাংলা (কারাঙ্গি), খোয়াই, সুতাং, কুশিয়ারা, মাধবপুর, মহাসিং, খাজাঞ্চি, ভট্টখাল, কালনি, জামালপুর, বরাবা, লভা, হরি, বোগাপানি, ধরিয়ানা, ধোয়াই, যদুকাটা, ধলা-ধলাই গাঙ, গোপলা-লাংলা, মোগাই-চলতি, রক্তি, পৈন্দা, ভেরা, মোহানা, ধনু-বৌলাই: (৩৬টি)।

কুমিল্লা: তিতাস, গৌমতী, ধনাগোদা, ডাকাতিয়া, দাপলা গাঙ, হাওরা, কাঠালিয়া, সোনাই, তাটনল, বুড়ী, কুলিয়াঝুরি, বাতাকান্দি, মরিচা, আরশি, গোপী, মারজোরা, ঘুঙ্গট, খেরুনদী, বৈজানী, পাগলী, শিরাই, চান্দিনা খাল, কাকড়ি, মালদা, অ্যান্ডারসন খাল, মতলব, উদনন্দি বা উদমধি, কাগনি, হরিমঙ্গল, কুরূলিয়া, জায়দিন্দ, সৌনাইমুড়ি, হন্দাচেরা, জাঙ্গলিয়া, দুরদুরিয়া, বুড়ীগঙ্গা বা বিজয়গঙ্গ, কালাডুমুরিয়া, বুড়িগাঙ, বিজয়পুর খাল, চৈ্দ্দগ্রাম খাল, নলিয়া, বিজলী, ঘুঙ্গর: (৪৪টি)।

নৌয়াখালী: মধুখালি খাল, রহমতখালি খাল, মুহুরী, ছোটা ফেনী, সিলোনিয়া, ফেনী, ভুলুয়া, হাতিয়া, আতিয়াবারি খাল, কালির খাল, পাটকাটা খাল, কথাকলি খাল, বাপারাশি খাল, গোয়ালখালি খাল, আত্রা খাল, হুরা খাল, গাহোযাতলি খাল, হালদা, ইছামতী: (১৯টি) ।

কুষ্টিয়া: মা্থাভাঙা, গড়াই, জলাঙ্গি, মাগরখালি: (৪টি)।

ফরিদপুর: মধুমতী, কুমার, আড়িয়াল খাঁ, আতাই নদী, মাদারিপুর বিল রূট: (৫টি)।

চট্রগ্রাম: হালদা, কর্ণফুলি, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, বাকখালি, সাতাল খাল, ইছামতী, মুহুরী, কাবলং, রাখিয়াং, সত্তা, শিল্পা, তুইবাং, ককা, শ্রীমা, বোয়ালখালি, মগদাই, ডং খাল, নারায়ণগিরি, চিরিঙ্গা, ইছাখালি, কুরসাই, সিঙ্গুর গঙ্গা, কাপ্তাই, রিগারী খিংর, চাঁদখালি, কুমিরাখালি, চেঙ্গি, মাইনী: (৩০টি)।

যশোর:  আপার ভৌরব, লোয়ার ভৌরব, চিত্র, বেগবতী, নবগঙ্গা, চন্দনা, কপোতাক্ষ, বারাসিয়া, খোলপটুয়া এলেংখালি, পানগুবি, কবা, কালীগঙ্গা, কাঠিপাতা, দড়াটানার খাল, মরিছোপ, চাঁদখোনি, পাংগানি, নাইনগত্র সমুদ্র, বড় পাঙ্গা, কুমার, বড় গাংদিয়াদহ, আমলা মদরপুর, ডাকোয়া, মরা গড়াই, বারাসিয়া, পালং, আত্রাই। (২৮টি)।

খুলনা: ভদ্রা, আঠারোবাঁকী, আলাইপুর খাল, খোলপটুয়া, শিবসা, রৃপসা, বলেশ্বর, গাসিয়াখালি, পশুর, আড়, পাঙ্গনিয়া, ওড়াটমা, ইছামতী, নমুদ সমুদ্র, সোনাগাঙ্গ, ভাঙরা, কুঙ্গা, মালঞ্চ, সাতক্ষীরা, সুতাখালী, রাইমঙ্গল, মারজাত, হরিণভাঙা, মহাভাঙা, গলাঙ্গী, হরিপুর, সোনাই, বুধহাটার গাঙ, ঢাকি, গালঘেমিয়া, উজীরপুর কাটাখাল, গুচিয়াখালি, বদুরগাছা, ডেলুটি, মানস, কয়ারা, আড়-শিবসা, কালিন্দী, মজুদখালি খাল, আকরার খাল, মংলা, সোলা, পায়রা, আন্দ্রনমুখো, মুহুরী, মোদলা, হাড়িয়াভাঙা, গানগুবি, কচা, পাকাশিয়া, মৈয়ার গাং, কাবিপাতা, ঝাঁক, শিয়ালীর খাল, নারায়ণখালী, কদমতলি, বাংরা, শীলা, কলাগাছিয়া, বাঁশতলী, সালখি, শাকবাড়িয়া, আলকি, মানিকদিয়া, চন্দেশ্বর, পানকুশী, বলেশ্বর, বলমার্জার বা মাঞ্জল, কাগীবাগ, রামপাল: (৭১টি)।

বরিশাল: বিষখালি, স্বরূপকাঠী বা সন্ধ্যা, বাবুগঞ্জ, হেমদা, লোহালিয়া, শাহবাজপুর, নয়াভাঙা, রাজগঞ্জ, গণেশপুর, দুবালদিয়া, তোরকি বা তুর্কি, কীর্তনখোলা, ধরমগঞ্জ, ঝিলিনহা, মনকুঠা, মুলতানি, কারখোমা, আলগি, ধুলিয়া, গঙ্গলিয়া, বুড়িশ্বর, কালীগঙ্গা, হরিণঘাটা, পাতুয়া, তেঁতুলিয়া, ধলিয়া, নীলাশী, নবগঙ্গা, ভোলা, পাকাশিয়া, চন্দনা বা পাংশা, জাবনাসবাদ, বলেশ্বর, শশ্মান ঘাট, মৈয়ার গাং, নয়া ভাঙনী, গৌরনদী, কালাবদর, মীরগামারী, কচা বা কোচা, লতা, ইলিশ বা ইলশা, কবাখালি, মধুমতী, আন্ধার মানিক, রাবণাবাদ বা পটুয়া, বুড়া গৌরাঙ্গ, বাকেরগঞ্জ, আমতলা, ধানসিঁড়ি, সুগণ্ধ্যা, ঝালকাঠি, চালনা, এলেংখালি, নলবিটি, খরবোরাবাদ, গলাচিপা: (৫৭টি)।

সুন্দরবন অঞ্চল: বলেশ্বর, সুমতি, ছাপড়াখালি, বড় শেওলা, হরিণ চীনা, শরনখোলা, আমবাড়ে, চান্দেশ্বর, কাপা, কালিদা, সঠকা, জাভো, মরা পশুর, ডাংমারি, বিলে, ছুতোরখালি, চালো বগি, হরমহল, বেড়ি-আদা, বাকির খাল, আড়-শিবসা, হড্ডা, মহিষে, ছাছোন হোগলা, মজ্জত, শাকবাড়ে-সিঙ্গা, গোলখালি, কুকুমারি, কলাগাছে, ডোমরখালি, হংসরাগ, কাগা, নীলকমল, খেজুরদানা, সেজিখালি, বাইনতলা, বাঙ্গাবালী, দোবেকি, ফিরিঙ্গি, মানদো, কেওড়াসুতী, বন্দো, ধকোলা, লতাবেড়ি, ভেটুইপাড়া, বালুইঝাঁকি, কালিকাবাড়ী, বেকারদোন, আন্ধর মানিক, ঝালে, পাটকোষ্ট, বাসে, গোলভকসা, ধানিবুনে, হরিখালি, মনসার বেড়, পুষ্পকাটি, গংঙ্গাসাগর, কালী লাই, বগী চেঁচানে, কুঁড়েখালি, ভৃয়ের দনে, কাঠেশ্বর, সোনারূপাখালি, দুধমুখ, লাঠিকারা, তৈরকাটি, ধানঘরা, আড়বাসে, দক্ষিণচরা, সাপখালি, কদমতলি, বুড়ের ডাবুর, লক্ষ্ণী পশুর, মানকি, আশাশুনি, তালতক্ত, ধ্বজিখালি, মন্ডুপতলা, নেতোখালি, ভায়েলা, বাগানবাড়ি, ঝাড়াবাগনা, বগাউড়া, বক্সখালি, চাইলতাবাড়ি, সিঙ্গড়তলি, মা্থাভাঙা, নারায়ণতলি, কইখালি, মধুরা, খাসিটানা, আগুনজ্বা্লা, ফুলঝুরী, মালাবগা, খামুরদানা, উবদে, গুবদে, সোনাইপাঁঠী, ধৌনাইর গাঙ, কানাইকাঠি, মরিচঝাঁপি, নেতাই তালপাঁঠী, ধনপতি, রাগাখালি, মুক্ত বাঙাল, আরিজাখালি, দুলোর টৈক, যিনগিলি, বিবির মাদে, টেকাখালি, দেউর যাঁদে, চামটা কামটা, কুঞ্চে মাঠে, ব্যয়লা কয়লা, মাদার বাড়ে, বয়ার নালা, হানকে, ধনচের নদী, মূল্যে মেঘনা, বাইলো, বেতমুড়ি, বুড়িগোল্লি, চুনকুড়ি, মায়াদি, ফুলবাড়ি, তালতলি, আংরা কনা, গাড়ার নদী, বাদামতলি, ভুতের গাঙ, বৈকু্ন্ঠ হানা, করপুরো, ছায়া হলড়ি, আড়ভাঙা, তালকপাঁঠী, খেজুরে কুড়ূলে, ছোটো শেওলা, কাঁচিকাটা, দাইর গাঙ, বৈকিরী, জালঘাটা, ইলিশমারি, ঝলকি, সাতনলা, মকুরনি, হেলার বেড়, কালিন্দে, শাকভাতে, গোন্দা, পালা, তেরবেঁকী, তালবাড়ে, হেড় মাতলা, ভুড়ভুড়ে, ছদনখালি, ফটকের দনে, ভরকুন্ডে, কেঁদাখালি, নওবেঁকী, কলসের বালি, পানির খাল, কুলতলি, বড়বাড়ে, মুকুলে, মধুখালি, পাশকাটি, গৌছবা, ঘাট হারানো, গাবান্দারা, লোকের ছিপি, বাহার নদীপার, বড় মাতলা, পায়রা ঠুনী, কালবেয়ারা, ঢুকুনী, পারশে মারী: (১৭৭টি))


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *