জাহাজনির্মাণ শিল্প

পাল তোলা কাঠের জাহাজ যখন সাত সমুদ্র পাড়ি দিত, সে যুগেই এ দেশে গড়ে ওঠে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিশাল অবকাঠামো। এখানে নির্মিত বাণিজ্যতরী ও রণতরীর কদর ছিল বিশ্বব্যাপী। রফতানি হতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সেই ঐতিহ্য আবারও ফিরে আসছে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পের কথা লিখছেন ।

ইতিহাস

প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের জাহাজনির্মাণ শিল্প বিশ্বে সুপরিচিত। বিশ্বের জাহাজ চলাচলের সংযোগস্থল ২ হাজার বছরের প্রাচীন আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর ইতিহাসে পোর্টা গ্র্যান্ডে নামে খ্যাত। সমুদ্র তীরবর্তী এবং নদীমাতৃক ও  দেশ হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও বহির্গমনের জন্য দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থাই ছিল একমাত্র ভরসা। তাই সুপ্রাচীন কাল এথেকে এ দেশে গড়ে ওঠে নৌপরিবহন ও জাহাজনির্মাণ শিল্প। বাংলাদেশের জাহাজনির্মাণ শিল্প মধ্যযুগে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। সে সময় সেগুন, জারুল, শিশুসহ জাহাজনির্মাণের উপযোগী উন্নতমানের বিভিন্ন ধরনের কাঠের সহজ লভ্যতা, দক্ষ শ্রমিক ও অভিজ্ঞ নৌ স্থপতি এবং প্রকৌশলীদের নির্মাণ কুশলতা এ অঞ্চলকে নিয়া যায় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের খ্যাতিতে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুরস্কের সুলতান বাংলাদেশ থেকে ১৩টি পালের জাহাজ আমদানি করেছিলেন। বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা চতুর্দশ শতাব্দীতে এ দেশে এসে এখানকার তৈরি জাহাজ দেখে মুগ্ধ হন। তিনি স্বদেশে ফিরে যান সোনারগাঁয়ের নির্মাণ করা ‘জাঙ্ক’ নামের জাহাজে করে। ফ্রেডারিক নামে আরেক খ্যাতিমান ইউরোপীয় পর্যটক ১৫৬৭ সালে এ দেশে ভ্রমণে আসেন। তিনি তার ভ্রমণ বিবরণীতে এ দেশে নির্মিত জাহাজের প্রশংসা করেন। ওই একই সময় বিক্রমপুরের স্বাধীন ভূপাত চাঁদরায় কেদার রায়ের রাজধানী শ্রীপুরের নৌ প্রকৌশলরা যুদ্ধজাহাজসহ সমুদ্রগামী জাহাজনির্মাণে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং সেখানে জাহাজনির্মাণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। ১৮০৫ সালে ঐতিহাসিক ট্রাফালগারের যুদ্ধে পর্তুগিজরা ব্যবহার করেছিল বাংলাদেশের নির্মিত কয়েকটি স্তূপ (বিশেষ ধরনের পালের যুদ্ধজাহাজ)। অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মানির ‘ডাচ ফ্রিগেট’ নামের বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা একটি জাহাজ আজো দেশের ব্রেমার হ্যাভেনের শিপ বিল্ডিং সযত্নে সংরক্ষিত আছে।
সুপ্রাচীন কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নদীমাতৃক বাংলাদেশে জাহাজনির্মাণ কখনোই থেমে থাকেনি। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলের উপযোগী ইস্পাতের তৈরি লঞ্চ, বার্জ, কার্গো, স্টিমার ইত্যাদি ছোট ছোট নৌযান নির্মাণের জন্য শতাব্দী ধরে অবিরাম গতিতে কাজ করে চলেছে শতাধিক শিপইয়ার্ড।

বর্তমান

আমাদের দেশের শিপইয়ার্ডে রয়েছে পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের সুদক্ষ প্রকৌশলী, স্থপতি ও প্রযুক্তিবিদ এবং শ্রমিক আর নির্মাণে বিশ্বমান নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশে এখন তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন জাহাজ। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রায় ২০০টি জাহাজনির্মাণ শিল্প প্রতিষ্ঠান বা শিপইয়ার্ড রয়েছে। এতে কর্মরত প্রায় ৮০ হাজার দক্ষ এবং দেড় লাখ অদক্ষ শ্রমিক রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও লোকবল ব্যবহার করে এসব শিপইয়ার্ড বিশাল আকারের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার, টাগবোট, ফিশিং বোটসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় যান্ত্রিক নৌযান নির্মাণে সফলতা দেখিয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে কয়েকটি শিপইয়ার্ড আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য সমুদ্রগামী জাহাজনির্মাণ শুরু করেছে। বাংলাদেশে জাহাজনির্মাণে নিয়োজিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৭টি শিপইয়ার্ড রফতানিযোগ্য জাহাজনির্মাণে সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে। এগুলো হলো খান ব্রাদার্স শিপইয়ার্ড, আনন্দ শিপইয়ার্ড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, কর্ণফুলী শিপইয়ার্ড, এনএসএল শিপইয়ার্ড এবং দেশ শিপইয়ার্ড রফতানিযোগ্য নতুন নতুন জাহাজনির্মাণের পাশাপাশি চট্টগ্রামের ফিসার ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে রফতানিযোগ্য জাহাজের যন্ত্রাংশ। উল্লেখ্য, বিশ্বে মাত্র ৬টি শিপইয়ার্ড ড্রেজার নির্মাণ করে। এর মধ্যে ২টি শিপইয়ার্ড আমেরিকান আর বাংলাদেশের ১টি কর্ণফুলী শিপইয়ার্ড।

সম্ভাবনা

বিশ্বে জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে জাহাজনির্মাণ ব্যয় ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। শ্রমিকের সহজলভ্যতা, স্বল্প মজুরি, নদী বিস্তৃত ভৌগোলিক সুবিধা, দক্ষ ও পরিশ্রমী জনশক্তির কারণে কম খরচে ভালো মানের জাহাজ কেনার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে জাহাজনির্মাণ কাজ বিশ্বমানে উন্নীত হওয়ায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, লিবিয়া, পাকিস্তান, মোজাম্বিক, মালদ্বীপসহ আরো কিছু এরই মধ্যে শিপইয়ার্ডগুলোর কাছে বিভিন্ন ধরনের জাহাজনির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এবং কার্যাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ বাংলাদেশে এ খাতে পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) জারি করা আইএসপিএস বোর্ডের কারণে ২৫ বছরের বেশি পুরনো জাহাজ ২০১৪ সাল থেকে চলাচলে নিষিদ্ধ করেছে। আইএমও-এর এই নির্দেশনার কারণে শুধু ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার নতুন জাহাজ ক্রয় করতে হবে। এ কারণে জাহাজ রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অফুরন্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, জাহাজ নির্মাণকারী হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর শিপইয়ার্ডগুলো এত বেশি পরিমাণ অর্ডার রয়েছে যে তারা নতুন করে জাহাজনির্মাণের আর কোনো কার্যাদেশ নিতে পারছে না। তাই ক্রেতারা জাহাজ কেনার জন্য বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ খুঁজছে। ফলে বাংলাদেশের মতো নতুন জাহাজ রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাচ্ছে।
জাহাজনির্মান শিল্প চায়না, জাপান ও কোরিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছিল। এমন সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশেরও। আশার কথা, ঋণসংকট থেকে বেরিয়ে আসছে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ের মতো ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতিগুলো। এরাই বাংলাদেশে নির্মিত নতুন জাহাজের বড় ক্রেতা। আবার আফ্রিকার দেশ তানজানিয়া, মোজাম্বিক ও কেনিয়ার ক্রেতারা যোগাযোগ শুরু করেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। আবার সাগরে স্থাপিত রিগে ব্যবহারের জন্য সাহায্যকারী জাহাজের চাহিদা এখন বাড়ছে। সব মিলিয়ে জাহাজনির্মাণ শিল্পে এখন এসব আশার আলো হাতছানি দিচ্ছে।
এই শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছে জানা যায়, মন্দার কারণে ছোট জাহাজের বাজারে যে ধীরগতি ছিল, তা শিগগিরই কেটে যাচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা সে দেশের ব্যাংকের সহযোগিতা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নতুন রপ্তানি আদেশ দিতে যোগাযোগ শুরু করেছেন ইউরোপের ক্রেতারা। আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও চোখ রাখছেন উদ্যোক্তারা। আগামী বছরে ৪০ থেকে ৫০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

প্রয়োজন যা

বাংলাদেশের জাহাজর্নিমাণ শিল্প এগুচ্ছে।সরকারের উচিত ব্যবহৃত জাহাজ আমদানি নিষিদ্ধ করা এবং স্থানীয় জাহাজ নির্মাতাদের আরও  আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দেয়া। সরকার এই বিকশমান খাত-কে তহবিল ব্যয় কমিয়ে সাহায্য করতে পারে; তুলনামূলক ভাবে যেখানে চায়নাতে মাত্র ৭ শতাংশ বাংলাদেশে তা ১৮ শতাংশ। যে চারটি স্তম্ভ এর উপরে জাহাজনির্মাণ শিল্প দাড়িয়ে সেগুলো হল-গুনাগুণ, সময়মত হস্তান্তর, যৌথ উদ্যোগ ও কর্পোরেট সামাজিক দায়দায়িত্ব।
উদ্যোক্তাদের মতে, আগামী তিন বছরের বিশ্বে জাহাজের বাজার প্রসারিত হবে। আন্তর্জাতিক নৌ-সংস্থার বাধ্যবাধকতায় ‘সিঙ্গেল হাল’-এর জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আসছে। পুরনো এসব জাহাজ প্রতিস্থাপন করতে হবে। আবার পরিবেশের দূষণমুক্ত জাহাজ তৈরির ধারণাও প্রসার হচ্ছে। তেল থেকে এলএনজি গ্যাসে চালিত জাহাজের কদর বাড়বে এ সময়। এই বড় বাজারের সুযোগ লাভ করতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।

তৈরি হয়চ্ছে উচ্চ প্রযুক্তির জাহাজ
সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ রপ্তানি করে এই খাতে রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর যাত্রীবাহী জাহাজ, ফেরিসহ নানা ধরনের জাহাজ রপ্তানি হয়েছে।এবার এই খাতে যুক্ত হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির জাহাজ। কেনিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয়ের জন্য এ ধরনের একটি জাহাজ নির্মাণ করবে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড।
‘অফশোর পেট্রোল ভেসেল’ হিসেবে পরিচিত বিশেষায়িত এই জাহাজ ঘণ্টায় চলবে ৩৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে। সড়কের গতির সঙ্গে তুলনা করলে এই গতিবেগ দাঁড়ায় ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এই জাহাজে স্থাপন করা হবে দ্রুতগতির ‘ওয়াটারজেট’ ইঞ্জিন। মূল ইঞ্জিনসহ ইঞ্জিনের ক্ষমতা দাঁড়াবে ১০ হাজার ৭২০ কিলোওয়াট। সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের ঘণ্টায় গতিবেগ থাকে ১২ নটিক্যাল মাইল।
জানা গেছে, দরপত্রের মাধ্যমে জাহাজটি কেনার কার্যাদেশ পায় ডেনমার্কের জেজিএইচ মেরিন এ/এস কোম্পানি। ডেনমার্কের এই কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড থেকে জাহাজটি তৈরি করে কেনিয়ার কাছে হস্তান্তর করবে। বাংলাদেশে উচ্চ প্রযুক্তির জাহাজ নির্মাণের ঘটনা এটিই প্রথম। দেশীয় জাহাজনির্মাণ শিল্পগুলো এ ধরনের জাহাজ রপ্তানির আদেশ পেলে দ্রুত প্রসার হবে এ শিল্পের। কারণ, এ ধরনের জাহাজ নির্মাণে জায়গা লাগে কম, তবে রপ্তানিমূল্য বেশি।
জানা গেছে, এই জাহাজটি মূলত কেনিয়ার সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে নিরাপত্তা তদারকিতে ব্যবহৃত হবে। এই জাহাজটিতে থাকবে হেলিকপ্টার নামানোর ব্যবস্থা। আবার জাহাজ থেকে জলদস্যুদের বহনকারী বা নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী জলযান নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তিও বসানো হবে। ২০১৬ সালে এই জাহাজটির নির্মাণ শেষ হবে। জাহাজটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৪ মিটার। প্রস্থ সাড়ে আট মিটার। এতে ৩৫ জন নাবিক থাকার ব্যবস্থা রাখা হবে।

যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করবে বাংলাদেশ
নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তৈরি হবে এসব জাহাজ। তালিকায় রয়েছে অত্যাধুনিক পেট্রল ক্রাফট। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতে। আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এসব দেশকে দেয়া প্রস্তাবনায় যুদ্ধজাহাজ তৈরির সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি জাহাজের নমুনাও পাঠানো হয়েছে। খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক এসব যুদ্ধজাহাজ।
যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের অর্জন। অতীতে অস্ত্র ও জাহাজ আমদানিতে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। এবার জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে অস্ত্র ব্যয় কমবে। উল্টো আমরাও বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবো। এর আগে বাংলাদেশ নিজেদের জন্য ৫টি পেট্রল ক্রাফট তৈরি করে। এসব জাহাজ ৫০ দশমিক ৪ মিটার লম্বা এবং ২৫৫ টন ওজনের আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত। ২০ নট গতির জাহাজে বহন করা যাবে ২টি ৩৭ এম এম এবং ২টি ২০ এম এম অত্যাধুনিক অস্ত্র, যা স্থল ও বিমানে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১২ সালের ৮ই অক্টোবর প্রথম পেট্রল ক্রাফটটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য আরও দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আর্থিক দিক থেকে বাংলাদেশের জাহাজনির্মাণ শিল্পের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে ধরা হচ্ছে।
এদিকে নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডেও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম। শিগগিরই এখান থেকেও রপ্তানিযোগ্য অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেবে নৌবাহিনী।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.