চিংড়ি রপ্তানি

চিংড়ি রপ্তানি

শামস্ বিশ্বস

তৈরি পেষাকের পর দেশের যে কয়টি পণ্যের চাহিদা বিশ্ববাজারে খুবই ভালো, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত চিংড়ি। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়। এর সিংহভাগই চিংড়ি। প্রতিবছরই এর চাহিদা বাড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে চিংড়ি রপ্তানিও।

হোয়াইট গোল্ডের চমক:

বাংলাদেশ মৎস্য রপ্তানিতে পৃথিবীর ৫ম স্থান। বর্তমানে দেশের জিডিপির প্রায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ আসে মৎস্য উৎপাদন থেকেই। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও দেশের মৎস্য সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বাংলাদেশ ইউরোপে ৫২ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২১ শতাংশ মৎস্য রপ্তানি করছে। দেশের মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির ৮০ ভাগই চিংড়ি থেকে আসে। ১৯৭২ সালে ২০ কোটি টাকার চিংড়ি রফতানি দিয়ে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতি বছর রফতানি আয় বাড়তে থাকে। ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে চিংড়ি রপ্তানি খাতে আয় ছিল মাত্র ৬০৪ কোটি টাকা। তখন উৎপাদন হতো ১৯, ২২৪ মেট্রিক টন চিংড়ি। বিগত বছরগুলোয় রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বিশ্বমন্দার কারণে চিংড়িকে বিলাসী খাদ্য হিসেবে ধরা হলেও ২০১০-১১ অর্থবছরে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। পরবর্তী দুই বছরে আবারো ঘুরে দাঁড়ায় হিমায়িত চিংড়ি শিল্প। ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৪৮,০০৭ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি আয় ছিল ৩,৬৪০ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ১১,৪৩৫ মেট্রিক টন আর রফতানি করে ৪ হাজার ২৪২ কোটি টাকার, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯০০ কোটিতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম মাস জুলাইতে ছয় কোটি ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল পাঁচ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের চিংড়ি। অর্থাৎ এই সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বাণিজ্যিক মৎস্য খামার মালিকদের সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ফোয়াব)-এর তথ্যানুসারে, হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে গত ৬ বছরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে হরতাল অবরোধসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দুই মাসে মৎস্য খাতে খামার মালিকদের অন্তত এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মেনুতে বাংলাদেশি চিংড়ি

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের চিংড়ি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপ মহাদেশের ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, স্পেন, জাপান, ইতালি, সুইডেন, রাশিয়া, ইউক্রেন, সাইপ্রাস, গ্রীস, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, অষ্ট্রিয়া এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নানা মুখি সঙ্কট ও প্রতিবন্ধকতা:

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত হিমায়িত চিংড়ি রফতানি শিল্প বর্তমানে নানামুখী সংকটে। চাহিদার তুলনায় দেশে চিংড়ি উৎপাদন অনেক কম হওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশে বর্তমানে যে ক’টি হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিকারক কোম্পানি চালু আছে, তাদের বছরে চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন। কিন্তু প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোয় উৎপাদন হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন। চিংড়ি সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে এরই মধ্যে বন্ধ হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি কারখানা। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশে ১৬৬টি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে লাইসেন্স রয়েছে ৯০টির, এর মধ্যে চালু আছে ৪০টি। খুলনায় ৫০টি কারখানার মধ্যে ৩৫টি এবং চট্টগ্রামে চালু আছে পাঁচটি কারখানা। বাকি কারখানাগুলো চিংড়ির অভাব, ব্যবস্থাপনার সংকট ও অর্থনৈতিক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রতি হেক্টরে চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে ৭০০ থেকে ১০০০ কেজি। থাইল্যান্ডে ১৫০০ থেকে ২০০০ কেজি এবং ভিয়েতনামে ২৫০০ থেকে ৩০০০ কেজি। সেখানে আমাদের দেশে হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি। আমাদের দেশে চিংড়ি উৎপাদন এত কম হওয়ার হল: অনেক চাষি সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করছে। ব্যাংক ঋণ না পাওয়া এবং ঋণ পেলেও সময়মত না পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চিংড়ি চাষ হচ্ছে না। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও এলাকাভিত্তিক অপপ্রচারেও চিংড়ি চাষ হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ যে পরিমাণ চিংড়ি রফতানি করে তা ৩ শতাংশের কম। যার কারণে ক্রেতা ও ভোক্তাদের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ফলে চিংড়ির মূল্য নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। অথচ ভিয়েতনাম বিশ্ববাজারে চাহিদার ১৭ শতাংশ চিংড়ি রফতানি করে ভোক্তাদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।

চিংড়ি রপ্তানিতে ‌আরো দুটি উল্লেখযোগ্য সঙ্কট হল: চিংড়িতে নাইট্রোফোরান (অ্যান্টিবায়োটিক) ইস্যু ও মান নিয়ন্ত্রণের (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) দেয়া সার্টিফিকেট টেম্পারিং ও চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ঘের থেকে চিংড়ি মাছ ধরার পর চাষিরা তা বিক্রি করেন ব্যবসায়ী বা ডিপো মালিকদের কাছে। মূলত ডিপোতেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ির ওজন বাড়ানোর কাজ করেন। সিরিঞ্জ দিয়ে চিংড়িতে পুশ করা হয় আটা মেশানো পানি, সাবুদানা কিংবা জেলিজাতীয় জিনিস। ফলে বিশ্ববাজারে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে চিংড়ি রফতানি শিল্পে।

এই সব সঙ্কটের সাথে যোগ হয়েছে বর্তমানের দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার। গত বছরের হরতাল-অবরোধের লোকসান পুষিয়ে উঠতে না উঠতে আবার শুরু হয়েছে টানা অবরোধ-হরতাল। হরতাল-অবরোধে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিপর্যয়ে পড়েছে ব্যবসায়ী ও চাষিরা। ফলে ডিপোতেই পচছে চিংড়ি। এদিকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এভাবে রপ্তানি কমতে থাকলে একসময় হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এই সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্টরা। টানা অবরোধে কারণে খুলনাঞ্চল থেকে চিংড়ি শিল্প রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। খুলনায় ৫৬টি হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি করে থাকে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন, গুনছেন লোকসান। উপরন্তু ঋণ পরিশোধ করতে ও মূলধনের জোগান দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রান্তিক চিংড়িচাষিরা। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন এ খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। ঘের থেকে সময়মত চিংড়ি তুলে সময়মত দেশ-বিদেশে সরবরাহ করতে না পারায়, বিপুল পরিমাণ চিংড়ি খামারে ও কোল্ডস্টোরে মজুদ থাকা অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে। এতে বিপুল লোকসান গুনছেন এ খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যবসায়ী আগাম দাদন দিয়ে চিংড়ি সংগ্রহ করলেও হরতাল-অবরোধের ফাঁদে পড়ে এখন তাদের সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম।

সম্ভাবনার দোয়ার:

চিংড়ি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে নানামুখী সঙ্কট ও প্রতিবন্ধকতা থাকার পরেও এই শিল্পের সুদিন আবার ফিরে আসছে। কিছু অসাধু চিংড়ি রপ্তানিকারক চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়ায় বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান হলে পুনরায় চিংড়ি রপ্তানি বেড়ে যায়। জানা যায়, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত হিমায়িত চিংড়ির ৭০ ভাগ ইউরোপের দেশগুলোতে রপ্তানি হচ্ছে। বেলজিয়ামে বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানির পরিমাণ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলে রপ্তানিকারকরা আশা করছেন। চলতি বছর এ খাতে আয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ কোটি ডলার অতিক্রম করবে বলে তারা জানান। বাংলাদেশে উৎপাদিত চিংড়ির সিংহভাগই বিদেশে রপ্তানি হয়। চিংড়ি খাত থেকে প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। চিংড়ি শিল্পকে কেন্দ্র করে দেশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কর্মরত আছে লক্ষ লক্ষ লোক। সরকারও এ শিল্পকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। দেশের চিংড়ি শিল্পের উন্নয়নে সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ‘জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা ২০১৪’-এর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত মানেরও উন্নতি হবে যা চিংড়ি খাতের সম্প্রসারণ, চাকরির সুযোগ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

জানা গেছে, সরকারের অনুমোদিত চিংড়ি নীতিমালা অনুযায়ী চিংড়ির ঘেরের আয়তন কোনক্রমেই ৩০ একরের বেশি হতে পারবে না। চিংড়ি খাতকে অধিকতর ঋণদান করার জন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে উত্সাহিত করা হবে।

এছাড়া নীতিমালায় আরো রয়েছে জাতীয় চিংড়ি নীতির পরিধি, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রগুলো, বাস্তবায়ন কৌশল, উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদী জলাশয়ের চিংড়ি সংরক্ষণ এবং আহরণ, উপকূলীয় এলাকায় সমন্বিত চিংড়ি চাষ ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক চিংড়ি সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও আহরণ, চিংড়ি হ্যাচারিও চাষের জন্য উপকরণ সরবরাহ, চিংড়ি সম্পদ উন্নয়নে উদ্বুদ্ধকরণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম, চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি, চিংড়ি সম্পর্কিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, চিংড়ি গবেষণা, চিংড়ি ঋণ বীমা ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি। সরকারের এই নীতিমালাকে চিংড়ি উৎপাদক এবং রপ্তানিকারকরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ইদানীং উন্নত পদ্ধতিতেও চিংড়ি চাষ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে চিংড়ি উৎপাদন হচ্ছে ২ টনের মতো। এর মধ্যেও দেশে লাইসেন্সকৃত হিমায়িত রফতানিকারক কোম্পানি চাহিদার তুলনায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ পাচ্ছে। গত বছর পুশের কারণে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া গত বছর বেশ কটি হিমায়িত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত কারখানাকে ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৪টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হয়। এছাড়া এ বছর অপদ্রব্য পুশ করায় সাড়ে চার হাজার কেজি চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এক ডিপো মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত দুই বছর চিংড়িতে নাইট্রোফোরানের (অ্যান্টিবায়োটিক) অভিযোগ নেই বললে চলে।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.