ক্রিকেটের কলঙ্ক

গত ১৯ মার্চ কলঙ্কজনক ভাবে বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে হারিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। ভদ্রলোকের খেলা বলে পরিচিত ক্রিকেটের ইতিহাসে রয়েছে এই রকম কলঙ্ক জনক নানা ঘটনা। ক্রিকেটের এই কালো অধ্যায় তুলে ধরেছেন শামস্ বিশ্বাস।

ম্যাচ ফিক্সিংয়

ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনা ঘটে ১৮১৭ সালে। সে ঘটনায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সে সময়কার তারকা ক্রিকেটার উইলিয়াম ল্যাম্বার্টকে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণাও করা হয়। সেই ম্যাচটি হয়েছিল ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত বিখ্যাত লর্ডসের মাঠে। ধারণা করা হয়, উপমহাদেশেও পাতানো খেলার সূচনা ইংরেজদের হাত ধরে। কারো কারো মতে, ১৮৯৩ সালে গুজরাটে চাম্পানের অনুষ্ঠিত এক ক্রিকেট খেলায় অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত টাকার লোভে অনেক বিখ্যাত টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটার পাতানো খেলায় জড়িয়ে পড়েন। অবশ্য এর খেসারতও দিতে হয়েছে তাদের। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই এর জন্য আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ পর্যন্ত ১৪ ক্রিকেটার আজীবন নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেটার সেলিম মালিক, আতা-উর রহমান, দানেশ কানেরিয়া, মোহাম্মদ আমির, সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফ। ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় শর্মা, শ্রীশান্ত, অজয় জাদেজা এবং মনোজ প্রভাকর। দক্ষিণ আফ্রিকান সাবেক অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে, হার্শেল গিবস এবং হেনরি উইলয়ামস। শ্রীলঙ্কার কুশল লোকুয়ারাচ্চি, নিউ জিল্যান্ডের লু ভিনসেন্ট, কেনিয়ার মরিস ওদুম্বে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস এবং বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল।

বর্ণবাদ

ক্রিকেটের সবচেয়ে কুখ্যাত হচ্ছে ব্যাসিল ডি’অলিভিয়েরা কেলেঙ্কারি যার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। এক সময় দক্ষিণ আফ্রিকা তার দলে জায়গা দিত শুধু শ্বেতবর্ণের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের। একদা কুখ্যাত বর্ণবাদী নীতি ‘অ্যাপার্থেইড-এর যাঁতাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হতে থাকল বছরের পর বছর। এর অবসানে নেলসন ম্যান্ডেলার অহিংসনীতির কথা আজ ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। বর্ণবাদী নীতির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহুকাল নিষিদ্ধ থাকার পর গত শতকের নব্বইয়ের দশকে মূলধারার ক্রিকেটে পুনর্বাসিত হল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ভেতরেও বর্ণবাদ ছিল উচ্চকণ্ঠ। ক্যাপ্টেন করা হত শ্বেতাঙ্গদের, দলে যোগ্য কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় থাকা সত্বেও। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগ গেছে। দুর্ধর্ষ এমন সব খেলোয়াড়কে একই সময় দলভুক্ত হতে দেখা গেছে যা আজকের দিনের ক্রিকেটদর্শকরা কল্পনাও করতে পারেন না।

বল টেম্পারিং

ক্রিকেটে বল বিকৃত করার অভিযোগ অনেক দিনের। ১৯৭৪ সালে বোলার জন লেভের বিপক্ষে ভেসলিন ব্যবহার করে বলের অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়ানোর অভিযোগ এনেছিল ভারতীয়রা। ৯০-এর দশকে পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তোলে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাইকেল আথারটনের বিপক্ষে অভিযোগ ছিল পকেটে ধুলা লুকিয়ে রেখে বলে আঙ্গিকতা বিনষ্ট করার। ক্রিকেট আইনের ৪২ নম্বর ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী কৃত্রিম কিছু ব্যবহার ছাড়া বলের পরিচর্যা করা যাবে; যেমন বল ভিজে গেলে তোয়ালে দিয়ে সেটি শুকানোও যাবে, স্বাভাবিক অবস্থা ধরে রাখতে এমনকি কাদা মুছে ফেলা যাবে। এর বাইরে বলের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করবে, এমন যেকোনো কিছু অবৈধ। মাঠে বল ঘষে সৌন্দর্যহানি করা, হাতের আঙুলের নখ কিংবা ধারালো কিছু দিয়ে ঘষে ক্ষয় করা কিংবা চামড়া উঠিয়ে ফেলা অথবা বলের সিম নষ্ট করা কিংবা উঠিয়ে ফেলা- এসবই অবৈধ। বল টেম্পারিং অপরাধীদের তালিকায় রয়েছেন: পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনুস, আজহার মাহমুদ, শোয়েব আখতার, শহীদ আফ্রিদি। ভারতের শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়, দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিসের মত ক্রিকেটাররা।

বডিলাইন

১৯৩০-এর অ্যাশেজে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের মোহনিয় ব্যাটিংয়ে নাকানিচুবানি খায় ইংলিশরা। ব্র্যাডম্যানকে থামানোর উপায় খুঁজতে গিয়েই জন্ম নিল ক্রিকেটের এক বিতর্কিত ইতিহাসের। আগের অ্যাশেজেই ব্র্যাডম্যানের লেগ স্ট্যাম্পের লাফিয়ে ওঠা বল খেলতে একটু অসুবিধে হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই ইংরেজ দলনেতা ডগলাস জার্ডিনের মাথায় এল বডিলাইন বা ফার্স্ট লেগ থিওরি। এই ফার্স্ট লেগ থিওরি বা বডিলাইনের মূল কথা জটিল কিছু নয়। মোদ্দা কথা হলো, ব্যাটসম্যানের শরীর লক্ষ্য করে একের পর এক গোলার মতো বল ছুড়ে দেওয়া। তত্কালীন প্রেক্ষাপটে লেগ সাইডে ফিল্ডারের সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না, ছিল না এখনকার মতো নিরাপত্তা সরঞ্জামের এত ব্যবহার। অতিপ্রয়োজনীয় হেলমেটের প্রচলনই এই ১৯৭০-এর দশকে, এলবো গার্ড, থাই বা চেস্ট গার্ডের প্রচলনও সমসাময়িক সময়ে। সেই অরক্ষণীয় সময়ে লারউড-ভোসরা চার-পাঁচজন ফিল্ডার দিয়ে লেগ সাইডে ব্যাটসম্যানকে ঘিরে ধরে তাঁর শরীর লক্ষ্য করে নিখুঁত লাইন লেনথে ক্রমাগত ছুড়ে গেছেন একেকটি গোলা। শরীরের দিকে গোলার মতো ধেয়ে আসা বলের আঘাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে যেয়েই ব্যাটসম্যান ক্যাচ দিয়ে আসেন কাছেই ওত পেতে থাকা ফিল্ডারকে। লেগের দিকে প্রচুর ফিল্ডার রেখে বডিলাইন বোলিং – যে ফিল্ডিং সাজানো পরে বেআইনি হয়ে যায়! ইংল্যান্ড হাতেনাতেই এর ফল পায়। বিল উডফুল-বার্ট ওল্ডফিল্ডরা আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন। ব্র্যাডম্যান দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করলেও তা হয় আগের অ্যাশেজের তাঁর ব্যক্তিগত রানের অর্ধেকের চেয়েও অনেক কম। ইংল্যান্ড সিরিজ জিতে নেয় ৪-১ এ। ঘন্টায় ৯০ মাইল বেগে ছুটে আসা একটা শক্ত বল জোরে শরীরে লাগলে সেটা শুধু যন্ত্রণাদায়কই ছিল না, ব্যাটসম্যানকে মারাত্মক জখমও করতে পারত! এই নিয়ে তখন থেকেই চলে তর্ক-বিতর্ক। বডিলাইন বোলিংয়ের সেই কৌশলের প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া আর ক্রিকেট সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভের ঝড় উঠল। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ান সমর্থকরা দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে পারেন. এমন আশঙ্কাও দেখা দিল। কিন্তু ম্যাচের সময় সারাক্ষণ ধরে দর্শকদের দুয়ো, ইংলিশদের এতটুকুও বিচলিত করতে পারেনি, বরং সেটা তাকে আরও তাতিয়ে দিত। তবে ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে অন্তত একজন, গাবি অ্যালেন কিন্তু ক্যাপ্টেনের নির্দেশ সত্ত্বেও বডিলাইন বোলিং করতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। ইংল্যান্ড সেই ম্যাচটা জেতার পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিল – তারা অ্যাডিলেড থেকে লন্ডনে এমসিসি-র কাছে পাঠালো এক জরুরি টেলিগ্রাম। তাতে বলা হল, ‘বডিলাইন বোলিং এমন একটা পর্যায়ে গেছে যা ক্রিকেটের স্বার্থের জন্য হানিকর হচ্ছে – ব্যাটসম্যানের জন্য তাঁর শরীর বাঁচানোটাই প্রধান কাজ হয়ে উঠছে।’

অস্ট্রেলিয়ান বোর্ড আরও লিখল, ‘ক্রিকেটারদের মধ্যে এর ফলে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হচ্ছে, তারা জখম হচ্ছে। আমাদের মতে এই বোলিং অখেলোয়াড়ি মানসিকতার পরিচায়ক এবং অবিলম্বে এটা বন্ধ না-হলে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বন্ধুত্বের সম্পর্কেও ফাটল ধরবে।’ এই তারবার্তা খবরের শিরোনাম হল উভয় দেশেই। রাজনীতিকরা বিতর্কে জড়ালেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করার হুমকিও শোনা গেল। শেষে অবশ্য অখেলোয়াড়ি মানসিকতার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাহার করে নিল, বাকি ম্যাচগুলো আর সিরিজ জিতে দেশে ফিরলেন ডগলাস জার্ডিন। কিন্তু বডিলাইন বিতর্ক টিকলো না – এই ধরনের বিপজ্জনক বোলিং বন্ধ করতে এমসিসি আইন পাল্টাতে বাধ্য হল।

আন্ডারআর্ম বোলিং

বোলার মাথার ওপর থেকে হাত না ঘুরিয়ে কাধের নিচ থেকে যে বল ছুঁড়ে দেন তাই আন্ডারআর্ম বোলিং নামে পরিচিত। কাঁধের নিচ থেকে বলা হলেও কতোটুকু নিচ থেকে আন্ডারআর্ম বোলিং বৈধ তার কোনো পরিমাপ না থাকায় ১৯৮১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একটা ঘটনার জন্ম দেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ ট্রেভর চ্যাপেল। ডাবলিউএমসির ম্যাচ টাই করার জন্য নিউ জিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল শেষ বলে ছয় রান। স্ট্রাইকিং এন্ডে কিউই ব্যাটসম্যান ছিলেন ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল তার ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে বলটি মাটিতে গড়িয়ে (আন্ডারআর্ম বটে!) ছুঁড়তে পরামর্শ দেন। বোলিং নমুনা দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো। দেশের জয়েও অস্ট্রেলিয়ানরাও খুশি হতে পারেনি। ক্রিকেট বিশ্ব লম্বা ধিক্কার মিছিলের আয়োজন করলো। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার রড মার্শ অবিশ্বাসে মাথা নাড়লেন। হতাশ ব্যাটসম্যান ব্রায়ান ম্যাকক্যাকনি ব্যাট মাটিতে ছুঁড়ে মারলেন। বললেন, এটা একটা ঘৃণ্য অভ্যুত্থান। ইয়ান চ্যাপেল তারই ছোট ভাই গ্রেগ চ্যাপেলকে প্রশ্ন ছুড়লেন: মাত্র ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অর্জনের জন্য তুমি কয়জন ভাইকে স্যাক্রিফাইস করবে? নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী রবার্ট মুলডুন বললেন, এটা তো কাপুরুষোচিত কাজ। অকল্যান্ডে টি শার্ট বিক্রি হল দেদারসে। যাতে লিখা ছিল : অসি হ্যাড অ্যান আন্ডারআর্ম প্রবলেম (অসিদের আন্ডারআর্ম সমস্যা ছিল)। আর ব্যাটসম্যান ব্রায়ান বললেন, শেষ বলে আমার ছক্কা হাকানোর সম্ভাবনা ছিল হাজারে। এ ঘটনার পর আইসিসি আন্ডার আর্ম বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

স্পট ফিক্সিং কি?

খুব ছোট ঘটনা যেমন তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলটি বাউন্সার হবে কি না? সম্ভাবনা খুব কম। এইরকম কোন বিষয় খেলার ফলাফলে হয়তো তেমন প্রভাব রাখে না। কিন্তু এই নিয়ে যখন লাখ লাখ ডলার বাজি ধরা হয় তখন তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। কোন বোলারকে যদি রাজি করানো যায় তখন একটি বল পরিনত হয় টাকার খনিতে। যার উপর বাজি ধরে কামানো যায় কোটি কোটি ডলার। সেই একটা বাউন্সার করে যখন কেউ এত টাকা পায় তখন মাথা ঠাণ্ডা রাখা কঠিন বৈকি। সেই সুযোগই নিচ্ছে বাজিকররা।

ক্রিকেটেকে বাণিজ্যিক টুর্নামেন্ট

২০০৭-এ সুভাষ চন্দ্র। এবারও বিশ্বকাপের টিভিস্বত্ব না পেয়ে যে ক্ষোভ জন্মেছিল ভারতীয় সম্প্রচার সংস্থা জিটিভির এই কর্ণধারের তা তিনি উগড়ে দিলেন আইসিএল নামের এক বিদ্রোহী লিগের আয়োজন করে। কিন্তু প্যাকার বিরুদ্ধ পরিস্থিতিকে জয় করেছিলেন চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় আর তিনি ভেঙে পড়লেন সামান্য চাপেই। বিপুল দেনা, চুক্তির নানা বরখেলাপ নিয়ে তাই আইসিএল বন্ধ হয়ে গেল দুই বছরের মধ্যেই। কিন্তু তার ছায়া রয়ে গেল। সেই ছায়া থেকেই জন্ম আইপিএলের। এঁরা দেখলেন আইসিএল বিরোধিতার মুখে পড়েনি বটে কিন্তু বাণিজ্য সম্ভাবনার যে বীজ বুনে দিয়ে গেছে সেদিকে এগোলে দারুণ ফললাভের সম্ভাবনা। তাই ভারতীয় বোর্ডই লেগে গেল এ রকম অর্থকরী টুর্নামেন্টের পেছনে। এখানে প্রতিকূলতার জায়গায় মারাত্মক অনুকূল হাওয়া। অর্থ আর শক্তিকে এক করে তাঁরা এমন ঝড় তুললেন যে সেই ঝড়ে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সংজ্ঞাই পাল্টে গেল। বিসিসিআই এর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ললিত মোদী আইপিএল শুরু করে বিশ্বের খেলাধুলার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ রেইন মেকার (অর্থ উত্পাদনকারী) হিসেবে গণ্য হন। ক্রীড়া প্রসাশক হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই তিনি নিজের সংগঠনের জন্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে সক্ষম হন। ভবিষ্যতে কেউ যাতে আইপিএলকে টেক্কা দিতে না পারে সেজন্য টুর্নামেন্টটিকে তিনি আইসিসির এফটিপিতে (ফিউচার ট্যুর প্লান) ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন। সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক্ষেত্রে আবারও হার মানতে হল টাকা ওয়ালা বিসিসিআই এর কাছে। এখন এফটিপির বদৌলতে ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে দুই মাস আইপিএল ছাড়া আর কিছুই নাই। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের প্রায় সব খেলোয়াড় আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ডের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের কোনও কাজ থাকে না এই সময়ে কারন তাদেরকে আইপিএলের কোনও দল টানেনা। বর্ষার ৪ মাস আর আইপিএলের ২ মাস সব মিলিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ৬ মাস কোন কাজই থাকে না। এটা বলা যায় যে, ক্রিকেটের বানিজ্যিকরনের কারনে ছোট দেশগুলির ক্রিকেটের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বিরাট ক্ষতি হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.