ইন্টারভিউ দেওয়ার পরে

ইন্টারভিউ দেয়ার পরে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। ইন্টারভিউ দেয়ার আগে যেমন করনীয় আছে, তেমনই শেষেও কিছু করনীয় আছে।
আসুন জেনে নেই ইন্টারভিউ দেওয়ার পরে করণীয় কী-

ইম্প্রেশন
রুমে ঢোকার সময়ে যেমন পজিটিভ ইম্প্রেশন গুরুত্বপূর্ণ, তেমন বের হওয়ার সময়ও ইম্প্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার হাসিমুখ ও স্কিলের এমন একটা ইমেজ ইন্টারভিউ রুমে দিয়ে আসুন, যাতে আপনাকে তারা নেয়ার জন্য আগ্রহী হন। হাসিমুখে বের হোন।

ধন্যবাদ নোট
এই পয়েন্টে, সবাই একমত – ইন্টারভিউ শেষে অবশ্যই ধন্যবাদ নোট (thank-you note) পাঠান। প্রায় সব প্রফেশনালরা রিকমেন্ড করে ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইমেইলে ধন্যবাদ নোট পাঠানোর। অনেকে আবার পরামর্শ দেয় হাতে হাতে লেখা কার্ড পাঠাতে – এতে একটা স্বকীয়তা এবং সৃজনশীলতার ছাপ থাকে – যার বিশেষ মূল্য রয়েছে। ইন্টারভিউয়ের তারিখ এবং কোন পোস্টের জন্য আবেদন করেছিলেন তা উল্লেখ করে ইন্টারভিউয়ারকে ‘থ্যাংক ইউ নোট’ এভাবে লিখতে পারেন, ‘আমি আপনাদের কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। এরপরে, ইন্টারভিউ থেকে আপনি কি কি শিখেছেন এরকম দু’টি পয়েন্ট উল্লেখ করুন। তারপর নিজের সবল দিকগুলো দিয়ে কিভাবে আপনি সংস্থার উন্নতি করতে পারবেন, তা নিয়ে ২-৩টি বাক্য লিখুন। এরপরে পুনরায় ইন্টারভিউয়ের কল পাওয়া বা সিলেক্টেড হওয়ার আশাবাদ জানিয়ে শেষ করুন।’ মোট ৪টি প্যারায় ৭-৮টি বাক্য লিখবেন।

ফলোআপ জরুরি
ইন্টারভিউ দেওয়ার পর সাধারণত ফলোআপ করা হয় না। এটা একটা বড় ভুল। ফলোআপই যদি নাই করা হয়, তাহলে যাওয়ার দরকার কি ছিলন কেন? ইন্টারভিউয়ের আপডেট কখনো নিয়োগকারী তরফ থেকে জানানো হয়, কখনো নিজে থেকে জেনে নিতে হয়। ইন্টারভিউয়ের পরে কী করা উচিত তা মনে রাখার জন্য এটি অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলির একটি। আপনার সঙ্গে যারা ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন, তাদের সাথে পরিচিত হোন। এর মাধ্যমে নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে। তাদের ফোন নম্বর নিন, সোশাল নেটওয়ার্কে এড করুন। আপনার নিজের সম্পর্কে জানান। তাদের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়ে আপডেট জানতে পারবেন।

সোশাল মিডিয়ার নেতিবাচক পোস্ট নয়
কোন কারণে ইন্টারভিউ খারাপ হলে কিংবা ইন্টারভিউ বোর্ডের এন্ড থেকে কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা হলে তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় যাচ্ছেতাই লিখে নেতিবাচক পোস্ট দিবেন না। এতে আপনার দুর্বলতা এবং অশহিসনুতা প্রকাশ পায়। এই ধরণের পোস্ট দেখলে, আপনার পরিচিতদের মধ্যে ‘আশংকা’ তৈরি হবে, তারা আপনাকে আর রেফার করবে না। আপকামিং ইন্টারভিউ যে সংস্থায় আছে – সে সংস্থার কেউ দেখলে – আগেই নেগেটিভ ইমেজ তৈরি হবে।

বিরক্তি করবেন না
ইন্টারভিউয়ের পরে নিয়োগকর্তাদের বিরক্ত না করে সতর্কতার সঙ্গে ফলোআপ নিন। তাদের বার বার ফোন বা ম্যাসেজ দিয়ে বিরক্ত করবেন না।। সপ্তাহ খানিক পরে ফলোআপ ইমেইল ড্রপ করতে পারেন, থ্যাংক ইউ মেইলের নিচে। ফোন না করে, একটি মেসেজ দিতে পারেন।

পরামর্শ দিন
আপনি যদি সংস্থার সাথে পরিচিত হন (এবং আপনি যদি সেখানে কাজ করতে চান তবে), আপনি অযাচিত ধারনা এবং পরামর্শগুলি পাঠাতে পারেন। কিন্তু সংস্থাটি কী করছে তা নিয়ে সমালোচনা করবেন না বা বিতর্কিত কিছু সুপারিশ করবেন না। আপনার লক্ষ্য কেবলমাত্র আপনার কৌশলগত পদ্ধতি, সৃজনশীলতা এবং দৃঢ় আগ্রহকে চিত্রিত করা, আপনি কীভাবে কোম্পানি চালাতে চান তা নয়।

সংযোগ তৈরি করুন
নিয়োগদাতাদের লিঙ্কডইন, ফেসবুক এবং টুইটারে ফলোয়ার হয়ে পড়ুন। তাদের সঙ্গে একটা যোগাযোগ করুন। আপনি যে সংস্থার জন্য কাজ করার আশা করছেন সেটি আপনার সুখ এবং নিরাপত্তার জন্য নয়, সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সাথে সিড কনভার্সেশনসের শুরু। যদি আপনি এটি ইতিমধ্যে না করে থাকেন, তবে এটি সেই ম্যাচটি চেক করতে দ্বিগুণ সময় নিন।।

আরো প্রস্তুতি
তালিকা করুন আপনি ইন্টারভিউতে কি কি ভালো করেছেন আর কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে। এটি ইন্টারভিউয়ের পরে করা সবচেয়ে কার্যকরী বিষয়গুলির মধ্যে একটি হতে পারে কারণ, এটি আপনাকে ভবিষ্যতের চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য যথাযথ প্রস্তুত করতে সাহায্য করবে বা আপনার ক্যারিয়ারে জন্য সহায়ক হতে পারে এমন সাধারণ দুর্বলতাগুলির মূল্যায়ন করবে। সময় নিয়ে, আরো প্রস্তুত হয়ে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরের ইন্টারভিউ দিন। জয় আপনার হবেই।

Read Previous

‘আপনার সম্পর্কে বলুন?’

Read Next

ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে ক্যারিয়ার | পেশা পরামর্শ | ক্যারিয়ার টিপস

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.